অনন্যা সরকার, কলকাতা: অক্টোবরের শেষের দিক, শীত দরজায় কড়া নাড়ছে। এই ঋতু উত্তুরে হাওয়ার সাথে বয়ে আনে কিছু সমস্যাও। বিশেষ করে এসময় ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়ার সমস্যাটি প্রকট হয়ে ওঠে। শীতকালে স্নানের পর ত্বক দ্রুত আর্দ্রতা হারায়। হাত, পা, কনুই ও গোড়ালিতে শুষ্কতা বেড়ে যাওয়ায় ত্বক টান অনুভূত হয়। শীতে বডি লোশনের (Body Lotion) বিক্রি বেড়ে যায় কয়েকগুণ। তবে বাজার চলতি অনেক বডি লোশনেই নানা ধরনের কঠোর রাসায়নিক উপাদান থাকে, যা ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। তাই যারা প্রাকৃতিক উপাদানের ওপর ভরসা করেন, তারা ঘরেই তৈরি করে নিতে পারেন কার্যকরী বডি লোশন। তাহলে আসুন জেনে নেওয়া যাক এই ঘরোয়া লোশন তৈরির উপকরণ ও পদ্ধতি।
বডি লোশন বানানোর জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ ও পদ্ধতি
বেশি নয়, মাত্র চারটি উপকরণ দিয়েই এই ঘরোয়া বডি লোশনটি তৈরি করা যাবে। এটি বানাতে লাগবে – ৪ চা চামচ অ্যালোভেরা জেল, ২ চা চামচ গ্লিসারিন, ২ চা চামচ বাদাম তেল এবং ৩ থেকে ৪টি ভিটামিন ই (Vitamin E) ক্যাপসুল ওয়েল। লোশনটি বানাতে প্রথমে একটি পরিষ্কার বাটি লাগবে। তার মধ্যে দিতে হবে অ্যালোভেরা জেল ও বাদাম তেল। এরপর ভিটামিন ই ক্যাপসুলগুলো খুলে ভিতরের তেলটি মিশ্রণটিতে যোগ করতে হবে। সবশেষে, গ্লিসারিন যোগ করে একটি চামচ দিয়ে সবকিছু ভালোভাবে নাড়তে হবে। প্রায় ২ মিনিট ধরে মেশানোর পর মিশ্রণটির গঠন পরিবর্তিত হতে শুরু করবে এবং এটি লোশনের মতো ঘনত্বে আসতে শুরু করবে।
হোমমেড বডি লোশন কীভাবে ব্যবহার করা উচিত?
এই লোশনটি স্নানের পর ত্বকে লাগানো যেতে পারে। এটি ঘুমোতে যাওয়ার আগে হাত, পা, গোড়ালি ও শরীরের অন্যান্য অংশেও লাগানো যেতে পারে। লোশনটি ত্বকের ওপর আলতোভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে, যাতে এটি সমানভাবে ত্বকে মেশে। এই ঘরে তৈরি লোশনটি হাত, পা, কনুই এবং গোড়ালির মতো বেশি শুষ্ক জায়গাগুলিতে লাগাতে পারেন। শীতকালে এই অংশগুলির ত্বকের বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হয়।
আরও পড়ুন: শীতকাল আসতে না আসতেই গোড়ালিতে বাড়ছে ব্যথা? মেনে চলুন এই ঘরোয়া টিপস
তবে মনে রাখতে হবে, এই লোশনটি একবার ব্যবহার করলেই সারাদিনের জন্য ত্বক নরম নাও থাকতে পারে। যাদের ত্বক সংবেদনশীল, তাদের ব্যবহারের আগে ত্বকের একটি ছোট অংশে লোশনটি পরীক্ষা করে দেখে নেওয়া উচিত। যদি চুলকানি, জ্বালাভাব বা লালচে ভাব দেখা দেয়, তবে এটি ব্যবহার করবেন না।










