অনন্যা সরকার, আলিপুরদুয়ার: কষ্ট করলে যে কেষ্ট মেলে, তা বারবার প্রমাণ করে দেয় মেধাবী, কর্মঠ শিক্ষার্থীরা। অভাব অনটন, পরিবেশগত বাধা সহ নানা প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে যায় তাঁরা। সেরকমই এক মেধাবী ছাত্রী হলেন আলিপুরদুয়ার জেলার কালচিনি ব্লকের বনবস্তি এলাকার বাসিন্দা জেমিনা নারজিনারি (NEET UG Success Story of Jemina Narzinari)।
প্রথম প্রচেষ্টাতেই নিট (NEET) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে জেমিনা তাঁর এলাকার মানুষদের কাছে গর্বের কারণ হয়ে উঠেছেন। সরকারি মেডিকেল কলেজে ডাক্তারি পড়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। তাঁর এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, সীমিত সম্পদ ও আর্থিক অনটনের মধ্যেও মেধা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব।
প্রত্যন্ত অঞ্চলে থেকে পড়াশোনা করে নিটে সাফল্য জেমিনার
জেমিনা পূর্ব সান্তালির বাসিন্দা। ছোট থেকেই তিনি বাড়িতে অভাব অনটন দেখেই বড় হয়েছেন। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে জেমিনা কোনো কোচিং সেন্টারে ভর্তি হতে পারেননি। নিট পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য তাঁর একমাত্র ভরসা ছিল মোবাইল ফোন, তিনি ইউটিউবে বিভিন্ন শিক্ষামূলক ভিডিও দেখে একা একাই নিটের জন্য প্রস্তুতি নেন। জেমিনা জানান যে, তাঁর এলাকায় নিট-এর মতো পরীক্ষার জন্য কোনো কোচিং সেন্টার নেই, তাই তাঁকে পুরোপুরি স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটে উপলব্ধ স্টাডি মেটিরিয়ালের ওপরই নির্ভর করতে হয়েছে।
আরও পড়ুন: পেট খারাপের পরই শরীর দুর্বল? সুস্থ হতে ভরসা রাখুন এই ৪ খাবারে
জেমিনা আরও বলেন যে, তাঁর বাবা-মা তাঁর জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। কোচিংয়ের সুবিধা থাকলে ভালো হতো ঠিকই, কিন্তু তা আর্থিকভাবে সম্ভব ছিল না। তবুও তিনি হাল ছেড়ে দেননি এবং প্রথম প্রচেষ্টাতেই সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। জেমিনার লক্ষ্য শুধু নিজের পেশাগত উন্নতিই নয়, তিনি একজন চিকিৎসক হয়ে তাঁর সম্প্রদায়ের মানুষদের বিনামূল্যে চিকিৎসা করারও ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন।
আরও পড়ুন: সাধারণ সরকারি স্কুলে পড়ে আজ IAS জয়শ্রী, হয়েছেন জেলা কালেক্টর
এই লক্ষ্যই তাঁকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও এগিয়ে যাওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি কোচবিহারের মহারাজা জিতেন্দ্র নারায়ণ (MJN) মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাশাস্ত্র নিয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ পেয়েছেন। জেমিনার এই সাফল্য বনবস্তির আদিবাসী সম্প্রদায়ের বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। স্থানীয় মানুষদের বিশ্বাস, জেমিনার এই সাফল্য এলাকার আরও অনেক শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করবে।










