আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: কথায় আছে মাছে ভাতে বাঙালি। বাঙালির খাবারের তালিকায় মাছের জায়গা বরাবরই আলাদা। মাছের ঝোল হোক বা মাছের ঝাল অথবা মাছ ভাজা, এই সব কিছুই বাঙালির নিত্যদিনের সঙ্গী। এই মাছ-ভাতের প্রতি ভালোবাসা যেমন রয়েছে, তেমনই অনেকের নিয়মিত খাদ্যতালিকাতেও মাছ থাকে। তবে সব মাছ যে স্বাস্থ্যের জন্য সমান উপকারী, এমনটা নয়। পুষ্টিবিদ ও নিউট্রিশনিস্ট ভ্যালেরিয়া, যিনি অনলাইন স্বাস্থ্য কোচিং প্ল্যাটফর্ম Nutrisense-এর সঙ্গে যুক্ত, জানিয়েছেন, মাছ খাওয়ার একাধিক উপকারিতা থাকলেও কিছু প্রজাতির মাছে পারদের মাত্রা অত্যধিক হতে পারে। নিয়মিত এমন মাছ খেলে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। এমনকি ক্যানসারের (Cancer) ঝুঁকি বাড়তে পারে কয়েকগুণ।
নিষিদ্ধ হয়েও চলছে বিক্রি
মাছগুলোকে নিষিদ্ধ করা হলেও বহাল তবিয়তে চলছে বিক্রি। এই তালিকায় রয়েছে থাই মাগুর বা হাইব্রিড মাগুর। সাধারণ মাগুরের সঙ্গে চেহারায় মিল থাকলেও আকারে এটি অনেকটাই বড়। দৈর্ঘ্য ৩ থেকে ৫ ফুট পর্যন্ত হতে পারে এবং ওজনও কয়েক কেজি পর্যন্ত পৌঁছয়। এর বৈজ্ঞানিক নাম ‘Clarias gariepinus’। এটি এক ধরনের ক্যাটফিশ। কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্রের সাহায্যে দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে পারে এই মাছ। এমনকি জল থেকে ডাঙাতে তুললেও চলাফেরা করতে সক্ষম এই মাছটি, তাই এর পরিচিতি রয়েছে ‘জায়ান্ট মাগুর’ নামে।
২০০২ সালে জাতীয় পরিবেশ আদালতের নির্দেশে ভারতে থাই মাগুর চাষ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। অভিযোগ, পুকুরে থাকা অন্যান্য মাছেদের বিপুল পরিমাণে খেয়ে ফেলার কারণে জলজ পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। এই মাছের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, চাষের সময় এই মাছকে পচা মাংস খাওয়ানো হলে জল দূষিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। গবেষণায় এই মাছকে উচ্চমাত্রায় ক্যানসার সৃষ্টিকারী বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি এর চর্বিতে অনেক হানিকারক পদার্থ রয়েছে যা নিয়েও স্বাস্থ্যের ঝুঁকির কথা বলা হয়।
আরও পড়ুন: “ইনি আমার মা” পশুর চারা বিক্রি করে ডাক্তারি পড়ানো জননীকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন ছেলের
শুধু থাই মাগুর নয়, পাঙাশ মাছ নিয়েও সতর্ক করেছেন গবেষকেরা। শিল্প ও কৃষিকাজের বর্জ্য পদার্থের সংস্পর্শে এই বেড়ে ওঠে, সেই কারণে এই মাছ নিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগ রয়েছে। এর শরীরে থাকা পারদের মাত্রা মানুষের সহনীয় সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও দাবি করা হয়েছে। থাই মাগুরের চাষ নিষিদ্ধ হলেও কলকাতার বিভিন্ন বাজারে এখনও এই মাছ বিক্রি হতে দেখা যায়। তাই মাছ কেনার সময় প্রজাতি সম্পর্কে সচেতন থাকাই জরুরি। নইলে বড় কোনও রোগের কবলে পড়তে হতে পারে।









