অনন্যা সরকার, কলকাতা: সন্তানদের ভবিষ্যত গড়ার জন্য বাবা মায়েরা প্রাণপাত করে দেন। অর্থনৈতিকভাবে যারা পিছিয়ে রয়েছেন, তাঁদের জন্য সংগ্রামটা আরও কঠিন (Struggle Story)। কিন্তু অনেকসময় দেখা যায়, যে বাবা রাস্তার ধারে দোকান চালিয়ে ছেলেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য জান-প্রাণ লড়িয়ে দিলেন, লোকসমাজে সেই বাবার পরিচিতি দিতেই সন্তান লজ্জা পান। আবার যে মা সন্তানের পড়াশোনার খরচ যোগাতে পরের বাড়ি রান্নার কাজ করেন, তাঁকে বন্ধুদের সামনে আনতে চায় না তাঁরই সন্তান। কিন্তু আজ যাঁর কথা বলবো, তিনি এর থেকে একেবারেই ভিন্ন। তিনি জানেন আজ তাঁকে ডাক্তার বানাতে (MBBS Student) তাঁর মা কীভাবে উদয়াস্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। একটি ভিডিওতে তিনি তাঁর মায়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন, যা এখন সমাজ মাধ্যমে রীতিমত ভাইরাল (Viral Video)। কী বললেন তিনি ভিডিওয়, আসুন দেখে নেওয়া যাক।
মায়ের কঠোর পরিশ্রমের কথা তুলে ধরলেন সন্তান
ওই ভিডিওটি তৈরি করেছেন ডঃ রাম লাল ভই। তিনি ভিডিওতে তাঁর মাকে দেখিয়ে বলেন “ইনি আমার মা, উনি পশুখাদ্য বিক্রি করে আমাকে পড়িয়েছেন।” ভিডিওটিতে তাঁর মাকেও রাস্তার ধারে পশুখাদ্য বিক্রি করতে ও প্রাণ খুলে হাসতে দেখা যায়। এরপর রাম তাঁর ডক্টর কোর্টে তাঁর মেডিকেল স্টুডেন্ট লেখা ব্যাচটি দেখান। তিনি বলেন, এভাবেই তাঁর মা তাঁকে এতদূর নিয়ে এসেছেন, এখন আর মাত্র এক বছর বাকি আছে।
View this post on Instagram
ভিডিওতে রাম মাকে জিজ্ঞাসা করেন, ডাক্তার হওয়ার পর তাঁর বেতন দিয়ে তিনি কী করবেন?” হাসিমুখে তাঁর জবাবও দেন মা। রামকে ভিডিওতে দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলতে শোনা যায়, “তোমার বাবা-মা যা করেন, তার সম্মান করো। তাঁদের পেশা যাই হোক, তা লজ্জা পাওয়ার বিষয় নয়। অন্যদের সাথে কীভাবে কথা বলতে হবে, তা শেখার আগে নিজের পরিবারের সাথে মন খুলে কথা বলো, পরিবারকে সময় দাও।” রাম লালকে তাঁর মায়ের দোকানে আসা গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলতেও দেখা যায় ভিডিওটিতে।
আরও পড়ুন: না থাকলেই বিপদ, বাড়িতে বসেই বানিয়ে নিন নীল আধার, রইল প্রসেস
সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার পরই এই ভিডিওটিকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দর্শকরা রাম লাল ভইকে পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি বলে অভিহিত করছেন। একজন নেট নাগরিক লিখেছেন যে, যদিও তিনি সংরক্ষণের সমর্থন করেন না, তবু ১ শতাংশও এমন মানুষদের সাহায্য হলে তিনি সমর্থন করতে রাজি। আরেক ইউজার বলেন যে, এটা লজ্জার বিষয়ই নয়, বরং গর্বের বিষয়। এক নেটিজেনের কথায়, মায়ের দেওয়ার অর্থের থেকেও, তাঁর হাসিটা অনেক বেশি মূল্যবান।










