৫ এপ্রিলের পর PPF-এ টাকা জমাচ্ছেন? হতে পারে ৪০ হাজার টাকা ক্ষতি!

Published:

Public Provident Fund

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমরা অনেকেই প্রভিডেন্ট ফান্ডকে (Public Provident Fund) বেছে নিই। কারণ, এটি ম্যাজিকের মতো রিটার্ন দেয়, আর টাকাও থাকে সম্পূর্ণ নিরাপদ। যারা শেয়ারবাজারের ঝুঁকি নিতে চান না, তাদের জন্য প্রভিডেন্ট ফান্ড বা ফিক্সড ডিপোজিট একেবারে সেরা বিকল্প। তবে আপনি কি জানেন, যদি এপ্রিল মাসের পরে প্রভিডেন্ট ফান্ডে টাকা জমা করেন, তাহলে আপনার অনেকটাই ক্ষতি হতে পারে। সেই পরিসংখ্যানে দেবো এই প্রতিবেদনে।

কত সুদ মেলে এখন প্রভিডেন্ট ফান্ডে?

জানিয়ে রাখি, ১৯৮৬ সালে কেন্দ্রীয় সরকার প্রবর্তিত সবথেকে ঝুঁকিমুক্ত সঞ্চয় প্রকল্প হিসেবে প্রভিডেন্ট ফান্ডকে বেছে নেওয়া হয়। বর্তমানে ত্রৈমাসিকে ৭.১% হারে সুদ দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে আপনি মাসে মাত্র ২০০০ টাকা জমিয়েই অবসরের পর কোটিপতি হতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে একটি শর্ত রয়েছে। যত কম বয়সে আপনি বিনিয়োগ শুরু করবেন, অবসরের পর তত মোটা অঙ্কের রিটার্ন পাবেন। সেক্ষেত্রে ২০ বছর বয়সে যদি বিনিয়োগ শুরু করেন, তাহলে যত রিটার্ন আসবে, ১০ বছর পর বিনিয়োগ করলে তার দ্বিগুণ রিটার্ন আসবে।

বাচ্চাদের নামেও খোলা যাবে অ্যাকাউন্ট

এই স্কিমের সবথেকে বড় বৈশিষ্ট্য হল, আপনি বাচ্চাদের নামেও অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন। সেক্ষেত্রে শিশুদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে অভিভাবকরা অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে। তারপর সন্তানের বয়স যখন ১৮ বছর হয়ে যায়, তখন অ্যাকাউন্টটি তাঁর নামে ট্রান্সফার করে নেওয়া যায়। আর ১০ বা ১৫ বছর থেকে বাচ্চার নামে যদি বিনিয়োগ শুরু করা হয়, তাহলে ৬০ বছর পর ফান্ডের দিকে আর ফিরে দেখাতে হবে না। তবে এক্ষেত্রে না বললেই নয়, আয়কর আইনের ৮০সি ধারা অনুযায়ী এখানে ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ শুধুমাত্র ছাড়যোগ্য। তার উপরে আয়কর প্রদান করতে হয়।

আরও পড়ুন: লক্ষ্য হাওড়া-হুগলি ও আসানসোলের শিল্পোন্নতি, বাংলার জন্য তৈরি হচ্ছে বিশেষ ব্লু-প্রিন্ট

৫ এপ্রিলের পর টাকা জমা দিলেই ক্ষতি

যারা প্রভিডেন্ট ফান্ডে বছরে এককালীন টাকা জমা দেয়, তাদের জন্য রয়েছে বড়সড় নিয়ম। আসলে এই স্কিমে ৫ এপ্রিলের মধ্যে টাকা জমা দেওয়ায় সবথেকে লাভের লাভ। কারণ, এই সময় মিস হয়ে গেলে এক মাসের সুদ হাতছাড়া হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে যদি আপনি ৩ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেন, তাহলে ৫ এপ্রিলের আগে যদি জমা দেন, তাহলে ২১,৩০০ টাকা সুদ পাবেন। তবে ৫ এপ্রিলের পর জমা দিলে এক মাসের সুদ কমে যাবে। সেক্ষেত্রে সুদ দাঁড়াবে ১৯,৫০০ টাকা। আর যদি এইভাবে ২০ বছর চলতে থাকে, তাহলে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪০ হাজার টাকার কাছাকাছি পৌঁছে যায়।