ATM থেকে কীভাবে উঠবে নতুন প্লাস্টিকের নোট? জানাল RBI

Published:

ATM Polymer banknote

সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ ভারতীয় বাজারে খুব শীঘ্রই আসতে চলেছে প্লাস্টিকের নোট (Polymer banknote)। ইতিমধ্যে তা অনুমোদন করেছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক। কবে প্লাস্টিকের ১০, ২০ টাকার নোট সকলে হাতে পাবেন, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। কিন্তু আরও একটি প্রশ্ন বারবার উঁকি দিচ্ছে। আর সেটা হল, ATM থেকেই বা কীভাবে এই প্লাস্টিকের নোট উঠবে? এই নিয়ে অবশেষে মুখ খুলল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)।

ATM থেকে কীভাবে উঠবে প্লাস্টিকের নোট?

আসলে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) তাদের পুরনো পরিকল্পনা পুনরায় সক্রিয় করেছে। RBI-এর নোট মুদ্রণকারী সংস্থা BRBNMPL ১৭ জুলাই ২০২৬-এ পলিমার উপাদান কেনার জন্য একটি গ্লোবাল টেন্ডার জারি করেছে, যার মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে নতুন ধরনের নোট ছাপানো হবে। খবর অনুযায়ী, ১০ ও ২০ টাকার নোট দিয়ে এই ট্রায়াল শুরু হতে পারে, যদিও RBI এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে তা নিশ্চিত করেনি।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই ট্রায়াল সফল হলেও বর্তমান কাগজের নোট বাতিল করা হবে না। সরকার জানিয়েছে, কাগজের নোট ও পলিমার নোট—দুটিই একসঙ্গে প্রচলনে থাকবে। তাই পুরনো ১০ বা ২০ টাকার নোট নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই। এমনকি এটিএম মেশিনেরও কোনও বদল হবে না। অর্থাৎ পুরনো মেশিন থেকেই উঠবে নতুন প্লাস্টিকের নোট।

পলিমার নোট কী?

পলিমার নোট সাধারণ কাগজ থেকে তৈরি হয় না। এগুলো এক বিশেষ ধরনের প্লাস্টিক ফিল্ম বা পলিমার সাবস্ট্রেটের ওপর তৈরি করা হয়। অনেক দেশ বাইঅ্যাক্সিয়ালি ওরিয়েন্টেড পলিপ্রোপিলিন (BOPP) নামক একটি কৃত্রিম উপাদান ব্যবহার করে। এটিকে প্রচলিত কাগজের নোটের চেয়ে বেশি শক্তিশালী ও টেকসই বলে মনে করা হয়। এই কারণে, গত কয়েক দশকে অনেক দেশ এই প্রযুক্তি গ্রহণ করেছে।

আরও পড়ুনঃ ৫ টাকা দিলেই ২৪ ঘন্টা মিলবে প্যাড, মহিলাদের জন্য বাংলায় চালু হল স্যানিটারি ATM

পলিমার নোট তৈরির প্রক্রিয়া সাধারণ কাগজের নোট তৈরির প্রক্রিয়া থেকে ভিন্ন। প্রথমে একটি পলিমার শিট প্রস্তুত করা হয়, যার উপর নোটের নকশা এবং অন্যান্য মুদ্রণ করা হয়। এরপর স্বচ্ছ জানালা এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য যুক্ত করা হয়। মুদ্রণ সম্পন্ন হওয়ার পর, রঙ এবং ছাপ দীর্ঘ সময়ের জন্য সংরক্ষণ করতে নোটের উপর একটি প্রতিরক্ষামূলক আবরণ প্রয়োগ করা হয়। অবশেষে, বড় শিটটি কেটে আলাদা আলাদা নোট তৈরি করা হয় এবং সেগুলোর গুণমান পরীক্ষা করা হয়, যাতে এটিএম এবং টাকা গণনার মেশিনে সেগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়।