সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের (Middle East War) আবহে দিনের পর দিন মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রার (Indian Rupee) অবমূল্যায়ন ঘটছে। ৯৫ টাকার রেকর্ড স্তর ছাড়িয়ে গেলেও এখন তা ৯৩ টাকার নিচে ট্রেড করছে। শুক্রবারের বাজারদর বলছে, প্রতি ডলারের দাম ভারতীয় টাকায় ৯২.৬০ টাকা। তবে গত ২০২৫ সালের পর যেন ভারতীয় রুপির নিরিখে ডলারের দাম মাথাচাড়া দিয়ে বাড়ছে। আর এবার রুপির দাম ধরে রাখার জন্য দু’দুটি পদক্ষেপ গ্রহণ করল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (Reserve Bank of India)।
বড়সড় পদক্ষেপ আরবিআই-র
বলে দিই, ভারত বিশ্বের মধ্যে এমন দেশ যার প্রায় ৮৬ শতাংশ তেল বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়। এ কারণে প্রচুর ডলার খরচ হয় কেন্দ্রকে। তবে যেহেতু পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে ব্রেন্ট ক্রুড অপরিশোধিত তেলের দাম একেবারে মাথাচাড়া দিয়ে বেড়েছে, সেই কারণে আমদানি খরচও বেড়েছে হু হু করে। যুদ্ধের আগে যেখানে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬০ ডলার প্রতি ব্যারেল ছিল, সেখানে যুদ্ধের মাঝে তা ১২০ ডলারে পৌঁছে গিয়েছিল। যদিও আজ হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার কারণে আবার ৯০ ডলারে নেমে এসেছে তেলের দাম।
এমতাবস্থায় ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগারগুলিকে স্পষ্ট বলেছে যে, অপরিশোধিত তেলের দাম মেটানোর জন্য যেন তারা নগদ বাজার থেকে কোনও রকম ভাবেই ডলার না কেনে। তার বদলে ধারের নথি দেখিয়েই কেনার পরামর্শ দিচ্ছে দেশের শীর্ষ ব্যাঙ্ক। এতে ডলারের অপচয় কমবে এবং ভারতীয় রুপি মাথাচাড়া দিয়ে দাঁড়াতে পারে।
আরও পড়ুন: ডলারের বিপরীতে টাকার পতন রুখতে দু’দুটো মোক্ষম পদক্ষেপ RBI-র, ঘুরবে অর্থনীতি?
দ্বিতীয়ত, ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোনা আমদানিকারী দেশ। তবে আন্তর্জাতিক টানাপড়েনের কারণে মাঝে তো রেকর্ড স্পর্শ করেছিল হলুদ ধাতুর বাজার দর। যদিও এখন তার দাম কমেছে। কিন্তু টাকার দর কমে যাওয়ায় আমদানি খরচ অনেকটাই বেড়েছে। সেই সূত্রে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক আমদানি করা সোনা, রুপো বন্দর থেকে খালাস করতে বারণ করছে। সূত্র বলছে, দেশের বিভিন্ন বন্দরে এখন আমদানি করা ৫ টন সোনা ও ৮ টন রুপো আটকে রয়েছে। আর বাণিজ্যমন্ত্রক সেক্ষেত্রে ছাড়পত্র না দিলে ব্যাঙ্কগুলো তা খালাস করতে পারছে না। সেই কারণে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক আমদানি নিয়ন্ত্রণ করেই ডলারের চাহিদা কমাতে চাইছে। এমনকি বিকল্প ঋণের ব্যবস্থা করে সেই নথির ভিত্তিতে তেল আমদানি করে দাম মেটানোর পরামর্শ দিচ্ছে আরবিআই। যদিও এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার মুখ খোলেনি।










