দার্জিলিংয়ের প্রথম স্কাইওয়াক, ঘুরে আসুন অচেনা এই অফবিট ডেস্টিনেশন থেকে

Published:

Darjeeling Skywalk

সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ দার্জিলিং (Darjeeling) চিরপরিচিত এক শব্দ। কত চেনা, তবুও চিরনতুন। দরকারে, অদরকারে, যখনই মন চেয়েছে, আমরা ছুটে গিয়েছে ‘পাহাড়ের রানী’র কাছে। তিনি কখনও ফেরাননি। যুগের চাহিদার সঙ্গে নিত্যনতুন আবিষ্কার হচ্ছে নতুন নতুন জায়গা, যার পোশাকি নাম ‘অফবিট প্লেস। দার্জিলিংয়ের অনতিদূরেই রয়েছে এমন একটি অফবিট প্লেস, যার নাম বালওয়াবাস (Balwabas)। ছোটো রঙ্গিত নদীর ওপর ঝুলন্ত এক স্কাইওয়াক (Darjeeling Skywalk)।

বর্ষায় ঘুরে আসুন দার্জিলিং-র এই অফবিট জায়গা থেকে

দার্জিলিং শহর থেকে এই স্কাইওয়াকের দুরন্ত আনুমানিক ১২ কিলোমিটার। ড্রাইভাইরকে বলে চাইলে ঘুরে আসতেই পারেন সবুজে ঘেরা, নিরিবিলি ডেসটিনেশন থেকে। এই স্কাইওয়াক কাঁচ ও কাঠ দিয়ে তৈরি। ব্রিজের নিচেই রয়েছে রঙ্গিত নদী, আশেপাশে সবুজে ঘেরা পাহাড় সাধারণত পর্যটকদের ভিড় এখানে খুব একটা থাকে না। আসলে অনেকেই এই জায়গা সম্পর্কে জানেন না বা সে’ভাবে প্রচার পায়নি, তাই এই স্কাইওয়াক নির্মাণের এই কয়েক বছর পরেও জায়গা পাচ্ছে অফবিট ডেসটিনেশন রুটে।

এটি দেখাশুনা করার জন্য রয়েছেন কর্মী। তিনিই পর্যটকদের পরিচালনা করে থাকেন। জুতো খুলে পা রাখতে হয় সেতুর পাটাতনে। একসঙ্গে সর্বোচ্চ দশজন ব্যক্তি প্রবেশ করতে পারেন এই স্কাইওয়াকে। বর্ষাকালে কাঁচের তৈরি এই সেতুর নীচ দিয়েই ছুটে যায় উচ্ছল ছোটো রঙ্গিত। লম্বায় আনুমানিক ১৬০ মিটার এই স্কাইওয়াক নদী থেকে আনুমানিক ২০০ মিটার উচ্চতায় রয়েছে। এই সেতুর উপর দিয়ে হেঁটে গেলে অ্যাডভেঞ্চারের স্বাদও একটু পেয়ে যেতে পারেন পারেন, কারণ হাওয়ার দাপটে সামন্য দুলে ওঠে এটি।

দার্জিলিংয়ের প্রথম স্কাইওয়াক

বলা হয়, এটিই দার্জিলিংয়ের প্রথম স্কাইওয়াক। স্থানীয়দের কাছে এক সময় এই ব্রিজটির গুরুত্ব ছিল অনেকটাই। বলা হয়, ব্রিটিশ আমলে এই ব্রিজ ব্যবহার করতেন সেখানকার সাধারণ মানুষ। যাতায়াত করতো ঘোড়া। ব্যক্তিগত এবং বাণিজ্যিক কারণে ব্যবহার করা হতো এই সেতু। পরে পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে এটিকে নতুন করে সাজিয়ে, বসানো হয় কাঁচ। ব্রিজটি দার্জিলিংয়ের সিংথামকে যুক্ত করেছে বিজনবাড়ির সঙ্গে। বিজনবাড়ির পুলাবাজারে যাওয়ার জন্য এক সময় এই সেতু ছিল যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম।

আরও পড়ুনঃ ঘূর্ণাবর্ত-নিম্নচাপ অক্ষরেখার জেরে তুমুল দুর্যোগের আশঙ্কা ৯ জেলায়, আজকের আবহাওয়া

কীভাবে যাবেন?

নিশ্চয়ই ভাবছেন কীভাবে যাবেন? সেক্ষেত্রে এনজেপি থেকে একটি প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া করে আপনাকে বালোয়াবাস-এ যেতে হবে। বিজনবাড়ির সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে কখন এখানে পৌঁছে যাবেন ভাবতেও পারবেন না।