সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সাফল্যের পথ যে সব সময় মসৃণ হয় না আর নিজের ভিতর ইচ্ছাশক্তি থাকলে যে অবশ্যই সাফল্য (Success Story) মেলে তা আবারও প্রমাণ করলেন কলকাতার অনির্বাণ ভট্টাচার্য এবং পল্লব ঘোষ। একসময় হাত খরচ আর ঘর চালানোর জন্য মাসে মাত্র আড়াই-তিন হাজার টাকার খবরের কাগজ বিলি করতেন অনির্বাণ। আর আজ তাঁর তৈরি বাদ্যযন্ত্রের ব্র্যান্ড গপ্পু (Gappu) বছরে ৩ কোটি টাকার ব্যবসার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোচ্ছে। সম্প্রতি শার্ক ট্যাঙ্ক ইন্ডিয়ার সিজন ৫-এ তাঁদের এই স্টার্টআপ বিচারকদের মন জয় করে নিয়েছে।
বাবার লড়াই থেকেই অনুপ্রেরণা
আসলে অনির্বাণের বাবা একসময় একটি বাদ্যযন্ত্র তৈরির সংস্থায় কাজ করতেন। কাঁধে গিটার নিয়ে বাজারে বাজারে ঘুরে বিক্রি করতেন তিনি। দীর্ঘ ২৫ বছরের হাড়ভাঙা খাটনি খাটলেও শেষ পর্যন্ত তিনি যোগ্য সম্মান পাননি। আর বাবার সেই লড়াই ও বাদ্যযন্ত্রের প্রতি ভালোবাসা দেখেই বড় হওয়া অনির্বাণ ঠিক করেন যে, বাবার অপমানের জবাব দেবেন তিনি নিজের কাজের মাধ্যমেই। সেই থেকেই তাঁর নতুন কোম্পানি গপ্পু জন্ম নেয়।
গপ্পুর বৈশিষ্ট্য হল এদের তৈরি বাদ্যযন্ত্রগুলি বাজানো শেখার জন্য কোনও রকম দীর্ঘকালীন প্রশিক্ষণের দরকার পড়ে না। জ্যাম বক্স, কাহুন, বোঙ্গো বা তালের মতো ইন্সট্রুমেন্টগুলো যে কেউ মাত্র ১০ সেকেন্ডের মধ্যেই আয়ত্ত করে নিতে পারে। এমনকি অনির্বাণ মাত্র ২১ বছর বয়সে নিজের ড্রাম টিচারের পরামর্শে প্রথম একটি কাহুন তৈরি করেছিলেন। ২০২২ সালে বন্ধু পল্লবের সঙ্গে মিলে তিনি এই ব্যবসার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেছিলেন।
তবে অনির্বাণ ও পল্লব দু’জনেই সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসেছে। অনির্বাণ অংকে অনার্স নিয়ে পড়া শুরু করলেও সেই পড়াশোনা শেষ করতে পারেনি। অন্যদিকে পল্লব দ্বাদশ শ্রেণীর পর পড়াশোনা ছেড়ে ডিজিটাল মার্কেটিং ও ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্টের কাজ শুরু করেছিলেন। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে তাঁদের আয় ছিল ৩১ লক্ষ টাকা। হ্যাঁ, একদম ঠিকই পড়েছেন। আর ২০২৪-২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫২ লক্ষ টাকায়। এমনকি বর্তমানে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তাঁদের সংস্থা ৩ কোটি টাকার ব্যবসার লক্ষমাত্রা নিচ্ছে।
আরও পড়ুন: দার্জিলিং-র কাছেই মেঘে ঢাকা অপূর্ব গ্রাম, ঘুরে আসুন গরমের ছুটিতে
শার্ক ট্যাঙ্কে বাজিমাত
প্রসঙ্গত, শার্ক ট্যাঙ্ক ইন্ডিয়ার মঞ্চে ১ শতাংশ ইকুইটির বিনিময়ে ৩০ লক্ষ টাকার বিনিয়োগ চেয়েছিলেন দুই তরুণ তারকা। তাঁদের জীবন সংগ্রামের কথা শুনে মুগ্ধ হয়েছিলেন সমস্ত বিচারকরা। যদিও আমান গুপ্তা, অনুপম মিত্তল বা নমিতা থাপাররা এখানে বিনিয়োগ করেননি। তবে CarDekho-র মালিক অমিত জৈন তাঁদের পাশে দাঁড়ান। আর অমিত ৩ শতাংশে বিনিময়ে ১০ লক্ষ টাকা এবং ১২ শতাংশ সুদে ২০ লক্ষ টাকা ঋণের একটি ডিল অফার করেছিলেন, যা অনির্বাণ এবং পল্লব হাসিমুখে গ্রহণ করেন। বর্তমানে কলকাতার কারখানাতেই তৈরি হচ্ছে গপ্পুর সমস্ত সরঞ্জাম। আর আগামী দিন গিটার থেকে শুরু করে পিয়ানো বা ড্রামের মতো প্রথাগত বাদ্যযন্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে নিজেদের ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে তাঁরা।










