সহেলি মিত্র, কলকাতা: বাংলার রেল যাত্রীদের ভ্রমণকে আরও সুবিধাজনক করতে বড় পদক্ষেপ নিল রেল (Indian Railways)। এবার বাঁকুড়াকে পূর্ব রেলের আসানসোল-বর্ধমান শাখার সঙ্গে জুড়তে চলেছে ডবল ইঞ্জিন সরকার। হ্যাঁ একদম ঠিক শুনেছেন। এতে করে নিঃসন্দেহে সুবিধা হবে বাংলার বহু মানুষের। দীর্ঘদিন ধরে এই কাজের দাবি ছিল সাধারণ মানুষের। অবশেষে সকলের ইচ্ছাপূরণ হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা রেলের উচ্চপদস্থ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে খবর।
আসানসোল-বর্ধমান শাখার সঙ্গে বাঁকুড়া
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়া-মশাগ্রাম শাখার বাঁকুড়া থেকে বেলিয়াতোড় পর্যন্ত বিদ্যমান রেলপথকে দুর্গাপুরের সঙ্গে যুক্ত করতে বেলিয়াতোড় থেকে প্রায় ২৭ কিলোমিটার নতুন রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জঙ্গলমহলের সঙ্গে দুর্গাপুরের সরাসরি যোগাযোগ গড়ে উঠবে। বড়জোড়ায় একটি নতুন স্টেশন তৈরির পাশাপাশি বড়জোড়াকে দুর্লভপুরের সঙ্গে সংযুক্ত করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যা মেজিয়া-বড়জোড়া শিল্পাঞ্চলের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
উপকৃত হবেন সাধারণ মানুষ
তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে দামোদর নদের উপর সেতু নির্মাণ জরুরি, যার জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় অর্থ দ্রুত বরাদ্দ হবে কি না, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে। অন্যদিকে অসমাপ্ত ছাতনা-মুকুটমণিপুর রেল প্রকল্পকে নতুন করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম রেলপথকে বাঁকুড়া হয়ে সম্প্রসারণের প্রস্তাব মন্ত্রকের কাছে পাঠানো হবে। এই রুট মানবাজার, রানিবাঁধ ও রাইপুর হয়ে ঝাড়গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।
আরও পড়ুনঃ ব্যবসার জন্য ৪০,০০০ কোটির ঋণ, বাংলায় ১ লক্ষ মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠী গঠনের লক্ষ্য পঞ্চায়েতের
দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গলমহলে রেল অবহেলার অভিযোগ রয়েছে। অর্থের অভাবে ছাতনা-মুকুটমণিপুর ও খানা-বোঁয়াইচণ্ডী-সহ একাধিক প্রকল্প থমকে থাকলেও সেগুলি বাস্তবায়িত হলে বাঁকুড়া, দুই বর্ধমান ও জঙ্গলমহলের মধ্যে যোগাযোগ ব্যাপকভাবে উন্নত হবে এবং এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গতি আসবে। বর্তমানে রাজ্য ও কেন্দ্রে একই দলের সরকার থাকায় দায় চাপানোর সুযোগ কমেছে, ফলে বাঁকুড়াবাসী নতুন করে রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণের আশা দেখতে শুরু করেছেন।










