অনন্যা সরকার, কলকাতা: আজকের যুগে এদেশের মহিলারা স্বনির্ভরতার পথে দ্রুত পদে এগিয়ে চলেছেন। এমনকি উদ্যোগপতি হিসেবেও বিভিন্ন ধরনের ব্যবসাতে নিজেদের ছাপ রাখছেন। নারীদের আর্থিক ক্ষমতায়নের জন্য ভারত সরকারের রয়েছে এক বিশেষ প্রকল্প, যার নাম ‘উদ্যোগিনী যোজনা’ (Udyogini Yojana)। এই প্রকল্পের অধীনে, যোগ্য নারীরা নিজেদের ছোট ব্যবসা শুরু করতে বা বিদ্যমান ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ পেতে পারেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই ঋণের জন্য কোনো সম্পত্তি বন্ধক রাখতে বা কোনও ধরনের গ্যারান্টির প্রয়োজন হয় না।
ব্যবসায়ী মহিলাদের জন্য সহজ ঋণ প্রকল্প
যেকোনো ধরনের ব্যবসা শুরু করার জন্য মূলধনের দরকার হয়। যেসমস্ত মহিলারা ঋণ নিয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে চান, তাদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগিনী যোজনা একাধিক সুবিধা প্রদান করে। তবে, এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে মহিলাদের বয়স, পারিবারিক আয় এবং আগের ঋণ সম্পর্কিত কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। যোগ্য মহিলাদের সর্বোচ্চ ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, এই ঋণের বিপরীতে কোনো সম্পত্তি বন্ধক রাখা বা কোনও গ্যারান্টার দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।
আরও পড়ুন: এভাবে আর তোলা যাবে না রেশন, নিয়মে বদল আনল পশ্চিমবঙ্গ সরকার
জেনারেল ক্যাটাগরির যোগ্য মহিলারা তাদের ঋণের ওপর ৩০% পর্যন্ত ভর্তুকি পান। আর তফসিলি জাতি এবং তফসিলি উপজাতির মহিলাদের ৫০% পর্যন্ত ভর্তুকি দেওয়া হয়। এছাড়া, অসহায়, বিধবা এবং প্রতিবন্ধী মহিলাদের জন্য ইন্টারেস্ট রেটে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থাও রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে এই সমস্ত মহিলারা খুব কম বা বিনা সুদেও ঋণ পেতে পারেন। এই প্রকল্পের অধীনে হস্তশিল্প, সেলাই, সূচিকর্ম, খুচরা ব্যবসা, খাদ্য উৎপাদন সহ ক্ষুদ্র ব্যবসার সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন সেক্টর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উদ্যোগিনী যোজনায় ৮৮ ধরনের ক্ষুদ্র শিল্পের জন্য আর্থিক সহায়তা পাওয়া যায়।
কারা পাবেন এই প্রকল্পের সুবিধা?
শুধুমাত্র ১৮ থেকে ৫৫ বছরের মহিলা আবেদনকারীরাই উদ্যোগিনী প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন। তাদের পরিবারের বার্ষিক আয় ১.৫০ লক্ষের মধ্যে থাকতে হবে। তবে অসহায়, বিধবা এবং প্রতিবন্ধী মহিলাদের জন্য এই আয়ের সীমায় শিথিলতা রয়েছে। এছাড়াও, আবেদনকারীর আগে কোনও ঋণ নিয়েছিলেন কিনা, তা দেখা হয়। নিয়ে থাকলে ঋণের রেকর্ড পরিষ্কার থাকা আবশ্যক। অর্থাৎ, যদি কোনো মহিলা আগে কোনো ব্যাংক বা ক্ষুদ্র আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে থাকেন এবং তা পরিশোধ করতে না পারেন, তবে তিনি এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য হবেন না।
আবেদনের জন্য কী কী নথিপত্র প্রয়োজন?
এই প্রকল্পে আবেদন করার জন্য কিছু জরুরি নথির প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে ভোটার আইডি কার্ড বা আধার কার্ড, আয়ের প্রমাণপত্র এবং আবেদনকারীর একটি পাসপোর্ট সাইজের ছবি। এছাড়াও, যে ব্যবসার জন্য ঋণ নেওয়া হচ্ছে, সেই ব্যবসার একটি সাধারণ প্রজেক্ট রিপোর্ট বা ব্যবসায়িক প্রতিবেদন জমা দিতে হতে পারে। এই প্রকল্পে আবেদন করার জন্য মহিলারা তাঁদের কাছের সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক, আঞ্চলিক পল্লী ব্যাংক বা কো-অপারেটিভ ব্যাংকে যোগাযোগ করতে পারেন। আবেদনপত্র ও অন্যান্য নথি পর্যালোচনা করে দেখার পর ব্যাংক ঋণের প্রক্রিয়া শুরু করবে।
আরও পড়ুন: মাসে ৬১ হাজার টাকা পেনশন, ১ কোটিরও বেশি সঞ্চয়, PF-এ কীভাবে বিনিয়োগ করবেন জানুন
উদ্যোগিনী যোজনায় কীভাবে আবেদন করবেন?
প্রথমেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে নিকটতম ব্যাংকে যেতে হবে এবং অ্যাপ্লিকেশন ফর্মটি পূরণ করতে হবে। এই ফর্ম ব্যাংক, নির্দিষ্ট সরকারি অফিসের পাশাপাশি প্রকল্পের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যাবে। এরপর ফিল আপ করা ফর্ম এবং কাগজপত্র ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। ব্যাংক কাগজপত্র এবং বিজনেস প্ল্যান পর্যালোচনা করার পরই ঋণের আবেদন মঞ্জুর করবে।
ঋণ অনুমোদিত হলে টাকার পরিমাণ আবেদনকারী মহিলার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অথবা ব্যবসায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও উপকরণ সরবরাহকারীর অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। উদ্যোগিনী যোজনা সর্ম্পকে জানতে উমাং (UMANG) অ্যাপ ও ওয়েবসাইট এবং মাইস্কিম (myScheme) পোর্টাল দেখতে পারেন। আবেদনকারীরা এখানেই এই প্রকল্প এবং আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য পেয়ে যাবেন। নিজের ছোট ব্যবসা শুরু করতে চান, অথচ মূলধনের অভাব? তাহলে এই স্কিমে আবেদন করতে পারেন।










