প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড তারাপীঠ (Tarapith) থানা সংলগ্ন একটি চারতলা হোটেলে (Hotel)। জানা গিয়েছে, ভোররাতে প্রথমে হোটেলের রিসেপশনে আগুন (Fire) লাগে। এরপরেই রিসেপশন থেকে চারতলা হোটেলে ছড়িয়ে পড়ে আগুন। আর এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে অন্তত ৬ জন পুণ্যার্থীর মৃত্যু হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হলেও হোটেল জুড়ে প্রচণ্ড ধোঁয়া থাকায় খানিক বেগ পেতে হয়েছিল উদ্ধারকারীদের। মূলত শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ড, বলে দাবি হোটেল মালিকের। আশঙ্কা করা হচ্ছে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
শ্রাবণের শেষ সোমবার উপলক্ষে গতকাল, রবিবার থেকেই তারাপীঠ মন্দিরে পুজো দেওয়ার জন্য ভক্ত ও পুণ্যার্থীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। ফলে তারাপীঠ থানা এলাকার ওই বেসরকারি চারতলা হোটেলটি পুণ্যার্থীতে পূর্ণ ছিল। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ সোমবার ভোররাত ৪টে নাগাদ প্রথম হোটেলের গ্রাউন্ড ফ্লোরে থাকা রিসেপশনে আগুন দেখতে পাওয়া যায়। সেই সময় হোটেলের অধিকাংশ বাসিন্দা ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। এদিকে কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই আগুন দ্রুত চারতলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ঘর ও সিঁড়ি ঘন কালো ধোঁয়ায় ভরে গেলে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আবাসিকদের মধ্যে। নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করেন।
Tarapith, West Bengal: A fire broke out at the Bideshini Hotel near a pond, close to Tarapith police station, at around 4.30 am. Six residents died in the fire, while several others suffered burn injuries. Firefighters brought the blaze under control and rescued the injured, who… pic.twitter.com/GISR310hrV
— IANS (@ians_india) August 17, 2026
হোটেলগুলির নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
হোটেলে কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, শর্ট সার্কিট থেকেই এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। এদিকে বদ্ধ ঘরে ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন অনেকে, মৃত্যু হয় ৬ জনের, এরপর ভোর ৫.৫৫ নাগাদ রামপুরহাট থেকে দমকলের দু’টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এবং পুলিশের তৎপরতায় অসুস্থদের রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মৃতদের পরিচয় জানার চেষ্টা করছে পুলিশ ও প্রশাসন। এদিকে মর্মান্তিক এই ঘটনার পর হোটেলগুলির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা ও তীর্থযাত্রীরা। হোটেলের অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা ঠিকঠাক ছিল কিনা এবং পুরো ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।
আরও পড়ুন: এভাবে আর তোলা যাবে না রেশন, নিয়মে বদল আনল পশ্চিমবঙ্গ সরকার
শ্রাবণ মাসের তারাপীঠে ভক্তদের প্রচুর ভিড় থাকে, প্রতিদিন বিহার ও ঝাড়খণ্ডের হাজার হাজার পুণ্যার্থী দেওঘর থেকে সোজা তারাপীঠে আসছেন। অন্যান্য জায়গা থেকেও লোকজন আসছেন দলে দলে৷ এমতাবস্থায় হোটেলে এই বিধ্বংসী আগুন লেগে যাওয়া নিয়ে রীতিমত উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সকলের মনে। এই প্রসঙ্গে দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী জানিয়েছেন, “খুবই দুঃখজনক ঘটনা। কীভাবে আগুন লাগল, অগ্নিবিধি ঠিকভাবে মানা হয়েছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনও গাফিলতি থাকলে কাউকে রেয়াত করা হবে না।”










