সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পেট্রোলে ইথানল মিশানো নিয়ে এমনিতেই গোটা দেশে বইছে আন্দোলনের ঝড়। তবে এবার পেট্রোলের পর সিএনজি এবং পিএনজিতে বায়োগ্যাস (Biogas) মেশানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে কেন্দ্র সরকার। হ্যাঁ সম্প্রতি কেন্দ্রীয় জাতীয় সমন্বিত প্রকল্প গোবর্ধনের অনুমোদন দিয়েছে। আগামী ১০ বছরের ২৩ হাজার ৭৩১ কোটি টাকার এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে বলেই জানানো হয়েছে। আর সেক্ষেত্রে সিএনজি এবং পিএনজিতে ৫ শতাংশ পর্যন্ত বায়োগ্যাস মেশানো হতে পারে।
সিএনজি-পিএনজিতে মেশানো হবে বায়োগ্যাস
সম্পদের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরেই এই সিদ্ধান্তের কথা জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। এই প্রকল্পের আওতায় কৃষিজ বর্জ্য, গোবর, জৈব বর্জ্য এবং অন্যান্য বায়োমাস উপাদানকে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং জৈব সারে রূপান্তরিত করা হবে। এর পাশাপাশি শহরে গ্যাস বিতরণ সংস্থাগুলি এই বায়োগ্যাস কেনা শুরু করবে। এমনকি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে সিএনজি এবং পিএনজির সাথে মোটামুটি ৩ শতাংশ বায়োগ্যাস মেশানো হতে পারে। তারপর ধাপে ধাপে তা ৫ শতাংশ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হবে।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, গোবর্ধন প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল গার্হস্থ্য বায়োগ্যাস উৎপাদন ১০ গুণের বেশি বাড়িয়ে জ্বালানি সুরক্ষাকে আরও জোরদার করা। তবে অন্যদিকে দেশজুড়ে পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানোর অভিযোগে সুর চড়াচ্ছে কংগ্রেস সহ বিভিন্ন বিরোধী দলগুলি। এমনকি এ বিষয়ে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ জানান, যেখানে অনেক দেশ কৃষিজ বর্জ্য এবং অন্যান্য জৈব পদার্থ থেকে ইথানল উৎপাদন করে সেখানে ভারত ইথানল উৎপাদনের জন্য আখ, ধান এবং ভুট্টার উপর নির্ভর করে। আর এই আখ আর ধান দেশের মোট সেচের জলের প্রায় ৭০ শতাংশ ব্যবহার করে ফেলে।
আরও পড়ুন: নৈহাটির বড়মা মন্দিরে কমিটিতে ঠাঁই সেই তৃণমূল ঘনিষ্ঠদের! ফের শুরু বিতর্ক
পাশাপাশি ইথানল মিশ্রিত পেট্রোলের প্রতিবাদে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ই২০ জনতা পার্টির আন্দোলন। এমনকি সম্প্রতি ট্যাক্সি ড্রাইভাররা সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছিল। এদিকে এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলে ইথানল মেশানোর অভিযোগের বিষয়ে সরকারও স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করেছে। কেন্দ্রীয় বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী রামমোহন নাইডু বৃহস্পতিবার জানান, এভিয়েশন টারবাইল ফুয়েলে ইথানল মেশানোর কোনও প্রস্তাব আপাতত সরকারের পরিকল্পনায় নেই।










