পাখা, AC বন্ধ করলেও আসবে মোটা বিদ্যুৎ বিল! চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাব সরকারের

Published:

Electricity Bill

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে পেট্রোল, ডিজেল, সিএনজির দাম এখন আকাশছোঁয়া। দিনের পর দিন বাড়ছে মূল্য। তবে এরই মাঝে আমজনতার পকেটে আরও বড় ধাক্কা লাগতে চলেছে। ঘর বন্ধ থাকুক, ফ্যান-এসি অচল থাকুক, বাড়িতে তালা ঝোলানো থাকুক, তবুও মাস শেষে আপনাকে গুনতে হবে মোটা অঙ্কের বিদ্যুতের বিল (Electricity Bill)। হ্যাঁ, বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলোর আর্থিক ক্ষতি সামাল দিতে এবার মান্থলি চার্জ বা স্থায়ী মাসিক শুল্ক এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রক।

কেন বাড়ানো হচ্ছে এই স্থায়ী শুল্ক?

আসলে বর্তমান দিনে বহু বিত্তশালী পরিবার বা বড় আবাসন কিংবা শিল্প সংস্থা নিজেদের ছাদে রুফ টপ সোলার সিস্টেম বসিয়ে নিচ্ছেন। যার ফলে তারা সরাসরি গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ কেনা কমিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু আপদকালীন ব্যাকআপের জন্য তারা সরকারি পরিকাঠামো ব্যবহার জারি রেখেছেন। এর ফলে সরকারি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা বা ডিসকমগুলির প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বিক্রি থেকে হওয়া আয় একেবারে তলানিতে ঠেকেছে। আর এই বিপুল আর্থিক ক্ষতিপূরণের জন্যই ফিক্সড চার্জ বাড়ানোর জন্য এই মাস্টার প্ল্যান।

এদিকে ফোরাম অফ রেগুলেটরসের কাছে পেশ করা রিপোর্টে সিইএ জানিয়ে দিয়েছে যে, বিদ্যুৎ সংস্থাগুলির মোট খরচের প্রায় ৩৮ থেকে ৫৬ শতাংশ স্থায়ী খরচ বা ফিক্সড কস্ট। যার মধ্যে ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক তৈরি, কর্মীদের বেতন থেকে শুরু করে রক্ষণাবেক্ষণ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সংস্থাকে অর্থ প্রদানও অন্তর্ভুক্ত থাকছে। আর এর বিপরীতে বর্তমান নিয়মে গ্রাহকদের ফিক্সড মান্থলি চার্জ থেকে সংস্থাগুলির মোট রাজস্ব মাত্র ৯ থেকে ২০ শতাংশ আসে। তবে বাকি টাকা এত দিন প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে আদায় করা হতো। কিন্তু সোলার প্যানেলএত জনপ্রিয়তা বাড়ার কারণে সেই মডেলে বড়সড় ধস নেমেছে।

আরও পড়ুন: ১০ টাকার ফিটকিরি থেকে আইডিয়া! এখন মাসে ২ কোটির ব্যবসা, জানুন নেহার সাফল্যের গল্প

কত খরচ বাড়তে পারে?

এদিকে আকস্মিক চাপ না বাড়িয়ে ধাপে ধাপে এই ফিক্সড চার্জ বসানোর পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। সেক্ষেত্রে সাধারণ গৃহস্থলী বা কৃষি কাজের জন্য ব্যবহৃত বিদ্যুৎ সংযোগের ফিক্সড চার্জ বাড়িয়ে এবার মোট খরচের ২৫ শতাংশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া শপিং মল, কারখানা এবং বড় বড় কমার্শিয়াল বিল্ডিং এর ক্ষেত্রে ২০৩০ সালের মধ্যে এই চার্জ বাড়িয়ে ১০০ শতাংশ করারও প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এখন দেখার, সাধারণ গ্রাহকরা কতটা প্রভাবিত হয়।