সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সাফল্য কোনও সময় নির্দিষ্ট ডিগ্রি বা কলেজের ব্র্যান্ডের উপর নির্ভর করে না তা প্রমাণ করে দিলেন অমিত দত্ত। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে নিজের জীবনযুদ্ধের কারণ শেয়ার করেছেন তিনি, যা ভাইরাল। ২০১৮ সালে আইআইটি প্রবেশিকা পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়া থেকে শুরু করে আজকে মেটার উচ্চপদস্থ ইঞ্জিনিয়ার হয়ে ওঠার সেই অদম্য জেদের কথাই জানাবো এই প্রতিবেদনে (Success Story)।
IIT-তে ব্যর্থতা
২০১৮ সালে যখন অমিতের সহপাঠীরা আইআইটিতে সুযোগ পেয়ে জয়ের উদযাপনে মেতে ছিলেন, ঠিক তখনই অমিত ভর্তি হয়েছিলেন এমন এক সাধারণ কলেজে, যার নাম অনেকে শোনেনি। অমিত বলেন, সেদিন আমি ভেঙে না পড়ে একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, আক্ষেপ করা ছেড়ে নিজেকে এমন একজন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে গড়ে তোলার শপথ নিয়েছিলাম, যার কৃতিত্ব কোনও দিন কোনও কলেজ নিতে পারবে না।
তাঁর লড়াইটা সহজ ছিল না। ২০২১ সালে কয়েক সপ্তাহ কঠোর প্রস্তুতির পর মাইক্রোসফটে ইন্টার্নশিপের জন্য ইন্টারভিউ দিয়েছিলেন অমিত। কিন্তু হ্যাঁ, সেখানে রিজেক্ট হয়ে যান। আর এই প্রত্যাখ্যান তাঁকে মানসিকভাবে কিছুটা হলেও ভেঙে দিয়েছিল। কিন্তু তাঁর জেদকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ফের তিনি পড়াশোনা শুরু করেন।
২০২২ সালে অমিতের পরিশ্রমের ফল মেলে। গুগল থেকে ফুল টাইম কাজের অফার পেয়েছিলেন তিনি। গুগলে থাকাকালীন তিনি নিজের দক্ষতা বাড়ানোর কাজে আরও মনোযোগ দিয়েছিলেন। কাজের সূত্রে সিঙ্গাপুরসহ পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন দেশে ভ্রমণের সুযোগ পান। যে ছেলেটি একসময় আইআইটি না হলে জীবন শেষ এই কথা ভাবতেন, তিনি এখন মহাদেশ ছাড়িয়ে গোটা বিশ্বযুদ্ধের সমস্যা সমাধান করছেন।
আরও পড়ুন: ভিড় যতই হোক, এই কার্ড থাকলেই মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেনে আসন নিশ্চিত! ঘোষণা রেলের
এদিকে অমিতের সাফল্যে মুগ্ধ হয়ে মেটা তাঁকে লন্ডনে অফিসের জন্য প্রস্তাব দেয়। ৬ রাউন্ডের কঠিন ইন্টারভিউ পেরিয়ে অবশেষে তিনি সেই সুযোগ পান। আর বর্তমানে ১.৭ কোটি টাকার বার্ষিক প্যাকেজে লন্ডনে চাকরি করছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের লড়াইয়ের পিডিএফ গাইড শেয়ার করে তিনি লিখেছেন আপনার ভাগ্য আপনার হাতে। কোনও নামীদামী কলেজের সিলমোহর নয়। আপনি হেরে গিয়েছেন কিনা তা ঠিক করবে আপনার ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা। পরীক্ষা যেন ২৫ বছরের ভবিষ্যৎ ঠিক না করে। একটি প্রবেশিকা পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়া মানেই জীবন শেষ নয়।










