প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বৈশাখের শুরু থেকেই গরমে ভয়ংকর অবস্থা রাজ্যবাসীর। চড়া রোদে ভর দুপুরে বাইরে বেড়ানো যেন খুবই কষ্টকর হয়ে উঠেছে সকলের কাছে। আর এই অবস্থায় ডিহাইড্রেশন (Dehydration) হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়। বিশেষ করে যাঁরা কাজের সূত্রে রাস্তা-ঘাটে থাকেন তাঁদের ক্ষেত্রে এই ভয় থেকেই যায়। এছাড়াও থাকে হিট স্ট্রোকের (Heat Stroke) ঝুঁকি। তবে এই সমস্যা শুধু বড়দের নয়, রয়েছে বাচ্চাদেরও। তাই বাচ্চাদের ডিহাইড্রেশন এবং হিটস্ট্রোক থেকে যত্নে (Child Health Tips) রাখতে বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলতেই হবে। চলুন আজকে প্রতিবেদনের মাধ্যমে সম্পূর্ণটা জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত।
বাচ্চাদের হিটস্ট্রোক থেকে বাঁচার উপায়
এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই ব্যাপক গরম পরে গিয়েছে রাজ্য জুড়ে। আর এই রোদের মধ্যেই স্কুলে যেতে হচ্ছে বাচ্চাদের। তার উপর দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এখন বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তাই স্বাভাবিকভাবেই বাচ্চাদের শরীর স্বাস্থ্য নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন সকলে। তবে চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন কয়েকটা জিনিস মেনে চললেই গরমে বাচ্চাদের হিট স্ট্রোক অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে। এক নজরে সম্পূর্ণটা জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত।
পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান
গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে হলে বেশি করে পানীয় জল খেতে হবে। দিনে অন্তত ২ লিটার জল পান করা বাধ্যতামূলক। আর অবশ্যই বাইরে বেরোলে এক্সট্রা জলের বোতল নিয়ে যাওয়া জরুরি। এতে রাস্তাঘাটে জল শেষ হয়ে গেলেও চিন্তা থাকবে না।
শরবত খাওয়া জরুরি
কাজের ফাঁকে মাঝে মধ্যেই বাচ্চাদের লেবু এবং সামান্য গুঁড় মিশিয়ে শরবত খাওয়ানো খুবই ভালো। কারণ এই দুই উপাদান শরীরের শক্তি বৃদ্ধি করার পাশাপাশি লিভারের কার্যকারিতাও ঠিক রাখে। এছাড়াও গরমের সময় যে পেট গরম হয়ে যায় সেটাও ঠিক হয়ে যায়।
রসালো ফল বেশি পরিমাণে খেতে হবে
গরমের সময় বেশি করে বাচ্চাদের ফল খাওয়ানো উচিত। কারণ গরমের সময়ে লেবুর রস, তরমুজের শরবত বা আনারসের শরবত খেলে শরীর ঠাণ্ডা থাকে। অবশ্যই বাচ্চাদের ব্যাগে ORS এর প্যাকেট দিতে দিতে হবে। যাতে স্কুলে কোনো অসুবিধা হলে সেই জল খেতে পারে তারা। এছাড়াও এই গরমে যদি শিশুর রোদ থেকে ফিরেই বমি হয় তাহলে ওআরএস জলে গুলে খাইয়ে দিলে শরীর ঠিক থাকবে।
আরও পড়ুন: বেঁচে যাওয়া মাংস দিয়েই ১০ মিনিটে বানিয়ে ফেলুন শিলে বাটা মুরগি, স্বাদ হবে দুর্দান্ত
চিকিৎসকের পরামর্শ
গরমের সময়ে ঘাম বসে শিশুদের নানা রকম জীবাণুর সংক্রমণও হয়। জ্বর, সর্দি-কাশি, অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ওষুধ খাওয়া উচিত। তবে যদি তিন দিনের বেশি জ্বর থাকলে, রক্ত পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে। অনেক সময়ে হিট স্ট্রোকের কারণে খিঁচুনিও হয় শিশুদের, তখন দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত।










