বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: মাঝে আর একটা দিন। আগামী 23 তারিখ বাংলায় প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচন। আর তার ঠিক আগেই তৃণমূলের নাম করে ছোট পর্দার অভিনেত্রী অমৃতা দেবনাথকে (Amrita Debnath) একটি র্যালিতে ডেকে পাঠিয়ে তীব্র হেনস্তার অভিযোগ উঠল। সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় নাম না করে একটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর দাবি, মিথ্যে কথা বলে তাঁকে মুর্শিদাবাদে ডেকে পাঠিয়ে চরম হেনস্থা করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয়, অভিনেত্রীর সাথে সাথে এদিন হেনস্থার শিকার হন তাঁর বাবা এবং দেহরক্ষীও।
তৃণমূলের নাম করে র্যালিতে নিয়ে গিয়ে চরম হেনস্থা অভিনেত্রীকে
সম্প্রতি একটি ভিডিও বার্তায় ছোট পর্দার বাঙালি অভিনেত্রী অমৃতা দেবনাথ জানান, এক প্রোগ্রামারের তরফে ফোন আসে তাঁর কাছে। ফোন তুলতেই অভিনেত্রীকে বলা হয় মুর্শিদাবাদে তৃণমূল কংগ্রেসের র্যালি রয়েছে সেখানে উপস্থিত থাকতে হবে। তিনি যেন এক ঘণ্টার মধ্যে রেডি হয়ে বেরিয়ে যান। প্রথম দিকে কথাটা শুনে কিছুটা ঘাবড়ে গেলেও পরে তৃণমূলের র্যালি জেনে রাজি হয়ে যান অভিনেত্রী। এদিন বাবা এবং নিজের দেহরক্ষীকে নিয়ে কথামতো মুর্শিদাবাদের নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছে যান তিনি। আর সেখানে পৌঁছতেই ব্যাপক হেনস্থার শিকার হতে হল তাঁকে।
বাঙালি অভিনেত্রীর দাবি, প্রথমত তাঁকে বলা হয়েছিল র্যালি শুরু হবে সন্ধ্যা 6টা থেকে। সেই মতোই তিনি আগে আগে পৌঁছে গেলেও নির্ধারিত সময় থেকে কয়েক ঘণ্টা দেরিতে শুরু হয় র্যালি। অভিনেত্রীর অভিযোগ, তাঁকে তৃণমূলের নাম করে মুর্শিদাবাদে নিয়ে যাওয়া হলেও পরে তিনি জানতে পারেন সেটি তৃণমূল কংগ্রেসের র্যালি নয়, বরং অন্য এক রাজনৈতিক দলের পদযাত্রা। যদিও রাজনৈতিক দলটির নাম প্রকাশ করেননি অভিনেত্রী। তবে তিনি জানিয়েছেন, তৃণমূলের নাম করে মুর্শিদাবাদে তাঁদের ডেকে নিয়ে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ গাড়ির মধ্যে আটকে রাখা হয়েছিল! পরবর্তীতে তাঁরা সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলে তাঁদের নাকি বলা হয় মিছিল শেষ হওয়া না পর্যন্ত তাঁরা কোথাও যেতে পারবেন না!
এ দিন গাড়ির ভেতরে বসেই একরাশ হতাশা নিয়ে ভিডিও বার্তায় অভিনেত্রীকে বলতে শোনা যায়, “আমি কয়েক ঘন্টা ধরে গাড়িতেই বসে আছি। আমাকে ওরা কিছুতেই বেরোতে দিচ্ছে না। আমাদের আটকে রেখেছে। গাড়ির সামনে পার্টির লোকেরা দাঁড়িয়ে আছে। আমি বলছি আমি পারবো না, করতে চাই না। তাও ওরা আমাদেরকে এক ঘন্টা ধরে আটকে রেখেছে এখানে। আমি আমার বাবাকে নিয়ে এখানে এসেছি, আমার প্রচন্ড ভয় লাগছে।”
অবশ্যই পড়ুন: অর্থনীতিতে বাকিদের গোল দেবে ভারত! আস্থা রাখছে খোদ রাষ্ট্রসংঘ
অভিনেত্রীর বক্তব্য ছিল, তিনি যখন জানতে পারলেন তৃণমূল নয় বরং অন্য একটি রাজনৈতিক দলের র্যালি হচ্ছে তখন তিনি যেতে চাননি। আর সে কারণেই অভিনেত্রীর গাড়ি আটকে রেখে মিছিল করতে থাকেন সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের কর্মীরা। অভিনেত্রী বলেন, রাজনৈতিক দলটির নেতা কর্মীরা কথা না শুনলে শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে গাড়ির রুফটপের উপর দাঁড়িয়ে অনিচ্ছা সত্ত্বেও হাত নাড়াতে হয়েছে তাঁকে।
বলাই বাহুল্য, বর্তমানে রাজ্য জুড়ে আদর্শ আচরণবিধি জারি রয়েছে। রাজ্যের নানান প্রান্তে টহল দিচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। বাংলায় যাতে ভোটের আগে কোনও রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয় তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন। কিন্তু তা সত্বেও কেন হেনস্থার শিকার হতে হল অভিনেত্রীকে? কোথায় ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী? উঠছে এমন একাধিক প্রশ্ন।










