জানেন বাসুকি নাগ ও শেষনাগ আসলে দুই ভাই? রইল সেই কাহিনী

Published:

Vasuki and Sheshnag

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: হিন্দু ধর্মে দেবদেবীকে নিয়ে এমন কিছু অজানা তথ্য অন্তর্নিহিত আছে, যা জানলে আমাদের সকলের গায়ে রীতিমতো কাঁটা দিয়ে উঠবে। আর সেই অজানা তথ্যের মধ্যে অন্যতম হল নাগরাজের (Vasuki and Sheshnag) কাহিনী। আপনি কি জানেন দেবাদিদেব মহাদেবের গলায় জড়িয়ে থাকা নাগরাজ বাসুকি এবং ভগবান বিষ্ণুর শয্যা হিসেবে পরিচিত শেষনাগের (Vasuki and Sheshnag) আসলে ভাই? না জানলে আজকের প্রতিবেদনটি রইল আপনার জন্য, বিস্তারিত জেনে নিন।

বাসুকি নাগ

ঋষি কশ্যপ এবং কাদ্রু-র হাজার সন্তানের মধ্যে সবচেয়ে বড় ছিলেন শেষনাগ ও বাসুকি নাগ। বাসুকি নাগ মহাদেবের গলায় মালার মতন জড়িয়ে থাকে। বাসুকিকে কুণ্ডলিনী শক্তির প্রতীক হিসাবে বিবেচনা করা হয়। আসলে কুণ্ডলিনী শক্তি হলো মেরুদণ্ডের গোড়া থেকে চেতনা পর্যন্ত উঠে আসা এক আধ্যাত্মিক শক্তি। পুরাণের অন্যতম কাহিনি হল সমুদ্র মন্থন। অমৃত লাভের আশায় দেবতা ও অসুররা যখন সমুদ্র মন্থনের সিদ্ধান্ত নেন, তখন তাঁদের একটি শক্তিশালী দড়ির প্রয়োজন ছিল যা মন্দার পর্বতকে ঘোরাতে পারে। সেই সময়ে বাসুকিকে দড়ি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

দড়ির লড়াইয়ে শেষে প্রচণ্ড চাপ ও ঘর্ষণে বাসুকির শরীর থেকে সৃষ্টি হয় মারাত্মক বিষ ‘হলাহল’। গোটা ভুবন যখন ভয়ংকর বিষে আক্রান্ত হয় তখন মহাদেব সেই বিষ পান করে বিশ্বকে রক্ষা করেন। যার জন্য মহাদেবকে ‘নীলকণ্ঠ’ বলা হয়ে থাকে। এদিকে বাসুকির এই আত্মত্যাগের জন্য শিব তাঁকে নিজের গলায় অলঙ্কার হিসেবে ধারণ করেন, যা ভক্তি এবং ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। সেই দিক থেকে বাসুকি ত্যাগ ও সেবার প্রতীক।

আরও পড়ুন: জানেন কোন পরিবারে বাস করেন অলক্ষ্মী? পুরাণে মিলবে উত্তর

শেষনাগ

শেষনাগ হলেন সর্পকূলের রাজা এবং পৃথিবীর ধারক। বলা হয়, মহাবিশ্বের সমস্ত গ্রহ নাকি তিনি নিজের মাথায় ধারণ করেন। পুরানে বলা হয় শেষনাগ একবার কঠিন তপস্যায় মগ্ন ছিলেন এবং আধ্যাত্মিক জ্ঞান লাভ করেছিলেন। সেই সময় স্বয়ং ব্রহ্মা তাঁকে আশীর্বাদ স্বরূপ পৃথিবীর ভার বহন করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তারপরেই তিনি পৃথিবীর দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। কিন্তু শেষনাগের ফণার সংখ্যা ও তাঁর ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন পুরাণে একাধিক বর্ণনা রয়েছে। তবে অনেকেই বিশ্বাস করেন, যখন তিনি পৃথিবীর ভার এক মাথা থেকে অন্য মাথায় স্থানান্তরিত করেন, তখনই নাকি ভূমিকম্প হয়।

শ্রীবিষ্ণু সমুদ্রের উপরে তাঁর একনিষ্ঠ ভক্ত শেষনাগের কুণ্ডলীতে বিশ্রাম নিয়ে থাকেন। তাই পুরাণের প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী এবং মহাভারতের আদিপর্ব এবং বিভিন্ন পুরাণের নাগবংশ-সংক্রান্ত কাহিনিতে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী বলা যায় বাসুকি নাগ ও শেষনাগ আসলে উভয়েই একই মায়ের দুই সন্তান।

google button