বাড়ি বাড়ি করতেন রঙয়ের কাজ, এবার হবেন ডাক্তার! NEET-এ অভাবনীয় সাফল্য সুরজের

Published:

NEET UG 2026 Success Story of Suraj Saini

অনন্যা সরকার, রাজস্থান: দৃঢ় সংকল্পের জোরে যে অসাধ্য সাধন করা যায়, তার অনেক দৃষ্টান্ত সামনে এসেছে গত ১৬ জুলাই নিটের (NEET UG 2026) রেজাল্ট বেরোনোর পর। সেই সব দৃষ্টান্তের মধ্যে উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে রাজস্থানের সুরজ সাইনির সাফল্যের কাহিনীটিও (NEET UG 2026 Success Story of Suraj Saini)। আর্থিক প্রতিকূলতাকে জয় করে তিনি এখন ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নের দিকে এগিয়ে চলেছেন দৃপ্ত পদে। যে সুরজ একসময় পরিবারকে সাহায্য করার জন্য গ্রামের বাড়িঘর রঙ ও চুনকামের কাজ করতেন, তিনিই এবছর সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষায় ৫৮৩ নম্বর ও ৯৯.১৬ পার্সেন্টাইল অর্জন করে নিয়েছেন, যা তাঁকে সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ করে দিয়েছে।

রঙের কাজ করে সংসার চালিয়ে নিটে অভাবনীয় ফল সুরজের

সুরজ সাইনি রাজস্থানের বুন্দি জেলায় কাপরেন শহরের বাসিন্দা। এলাকারই এক হিন্দি-মাধ্যম সরকারি স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। দশম শ্রেণিতে ৮৭ শতাংশ এবং দ্বাদশ শ্রেণিতে ৮৫ শতাংশ নম্বর পেয়ে ভালোভাবেই স্কুল পাস করেন। তবে ছোটবেলায় তিনি কখনও ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখেননি। এমনকি সুরজ জানিয়েছেন যে, দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত তিনি নিট পরীক্ষা সম্পর্কেই জানতেনই না। তাঁর মাসি তাঁকে এ বিষয়ে প্রথম অবগত করেন। এখান থেকেই তিনি চিকিৎসা ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার তৈরি করবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন।

আরও পড়ুন: NEET-এ দুর্নীতির অভিযোগে হাইকোর্টে পরীক্ষার্থী, কড়া নির্দেশ বিচারপতির

পরিবারে প্রবল আর্থিক সংকটের কারণে সুরজ তার ছুটির দিনগুলোয় ও অবসর সময়ে আশেপাশের গ্রামগুলোতে বাড়িঘর রঙের কাজ করতেন। এই কাজটা সে কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই অন্যদের দেখে দেখে শিখেছিল। রঙের কাজ থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে সুরজ তাঁর পরিবারের ভরণপোষণে সাহায্য করতেন। সুরজের মা, ঘিসি বাই পেশায় একজন কৃষি শ্রমিক। তাঁদের আর্থিক অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে, তার ছোট বোন গরিমাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানোর পর স্কুল ছাড়িয়ে দিয়ে মাঠে কাজ করাতে নিয়ে যান মা। সুরজ এখন চায় তার বোন আবার স্কুলে ফিরে যাক ও পড়াশোনা সম্পূর্ন করুক।

সুরজ সাইনি ২০২৪ সালে প্রথমবারের জন্য নিট পরীক্ষায় বসেন, তবে সঠিক প্রস্তুতির অভাবে তিনি সেবার অকৃতকার্য হন। এরপর কিছুদিন নিজে থেকে পড়াশোনা করার পর কোটার অ্যালেন ক্যারিয়ার ইনস্টিটিউটের একটি স্কলারশিপ প্রোগ্রামের মাধ্যমে বিনামূল্যে কোচিং ও থাকার ব্যবস্থা পান। এটি তাঁর প্রস্তুতিতে ব্যাপক সাহায্য করে এবং শেষমেষ তৃতীয় চেষ্টায় অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেন সুরজ।

আরও পড়ুন: দিনে টোটো চালিয়ে রাতে পড়াশোনা, NEET-এ অভাবনীয় সাফল্য যুবকের

সুরজ জানিয়েছেন যে, কোচিং নিলেই যে সাফল্য মিলবে এমনটা ভাবা ঠিক নয়, বরং সঠিক নির্দেশনা এবং নিয়মিত অনুশীলন এর থেকেও বেশি জরুরি। শুরুতে কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হয়, সেটাই জানাতেন না সুরজ। শিক্ষকরা প্রথমে তাঁর মৌলিক ধারণাগুলো শক্তিশালী করতে এবং নিত্য অনুশীলনের দিকে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। সুরজ সাইনি নিট পরীক্ষায় ৭২০-এর মধ্যে ৫৮৩ নম্বর এবং ৯৯.১৬ পার্সেন্টাইল নিয়ে পাস করেছেন। তাই তিনি আশাবাদী যে এই রেজাল্টের সাথে একটি সরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস (MBBS)-এর আসন পেয়ে যাবেন তিনি। ভবিষ্যতে ডাক্তার হয়ে সমাজের সেবা করাই এখন তাঁর লক্ষ্য হয়ে উঠেছে।