দিনে টোটো চালিয়ে রাতে পড়াশোনা, NEET-এ অভাবনীয় সাফল্য যুবকের

Published:

NEET UG Success Story of Mohammad Suhail

অনন্যা সরকার, উত্তরপ্রদেশ: লক্ষ লক্ষ ছাত্র ছাত্রী প্রতিবছর নিট (NEET) পাশ করার স্বপ্ন দেখে। আর সেই স্বপ্ন পূরণের পিছনে যদি থাকে কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও অধ্যাবসায়, তাহলে সব বাধাকে অতিক্রম করে পৌঁছে যাওয়া যায় সাফল্যের শিখরে। এমনই গল্প মোহাম্মদ সুহেলের (NEET UG Success Story of Mohammad Suhail), যিনি আর্থিক অনটন থাকা সত্ত্বেও নিজের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নকে ত্যাগ করেননি। দিনে ই-রিকশা চালিয়ে পরিবারকে সাহায্য করতেন, আর রাতে নিট পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতেন। মায়ের দীর্ঘদিনের সাধ ছিল ছেলেকে ডাক্তার হিসেবে দেখার। এবার সুহেল তৃতীয় প্রচেষ্টায় নিট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। বর্তমানে তিনি তাঁর দৈনিক মজুরি উপার্জনের পাশাপাশি এমবিবিএস (MBBS)-এর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁর সাফল্যের গল্প আজ হাজার হাজার যুবকের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।

মায়ের স্বপ্ন পূরণ করে নিটে সফল সুহেল 

মহম্মদ সুহেল উত্তর প্রদেশের মুজাফফরনগরের বাসিন্দা। তার বাবা ই-রিকশা চালাতেন, কিন্তু তাঁর একার রোজগারে সংসার চলতো না। আর্থিকভাবে খুবই দুর্বল তাঁর পরিবার, তাই পড়াশোনার পাশাপাশি সংসারের দায়িত্বও কাঁধে তুলে নেয় সুহেল। এরপর সেও বাবার মতো টোটো চালানো শুরু করে, পাশাপাশি পড়াশোনাও চালিয়ে যাচ্ছিল। তার মা স্বপ্ন দেখতেন ছেলে ডাক্তার হবে। দিনে ই-রিকশা চালিয়ে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করতো সুহেল, আর রাতে করতো পড়াশোনা।

আরও পড়ুন: NEET বিতর্কে পড়ুয়াদের বড় আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর, করলেন গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাও

সুহেল দ্বাদশ শ্রেণি শেষ করে মেডিকেলে ভর্তির জন্য নিট পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করে। তার প্রথম প্রচেষ্টার ফল আশানুরূপ ছিল না, সেবার ৭২০-এর মধ্যে মাত্র ১০৯ নম্বর পায়। এই সময়ে তাকে অনেক সমালোচনা ও বিদ্রূপের সম্মুখীন হতে হয়েছিল। তবে, এসব নিয়ে পড়ে না থেকে সে তার পড়াশোনার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনে। যে বিষয়গুলি তাঁর কাছে কঠিন ছিল, সেগুলোর ওপর বেশি মনোযোগ দেন। তার এই যাত্রায় পাশে ছিল গোটা পরিবার। 

আরও পড়ুন: NEET-এ ৯৪০, একাধিক প্রবেশিকা পরীক্ষায় অসাধারণ সাফল্য ঘাটালের মেয়ে রাজন্যার

তিনি ২০২৫ সালেও নিট (NEET) পরীক্ষা দেন, কিন্তু তাঁর নম্বর কম ছিল। স্কোর আরও বাড়ানোর জন্য তিনি এবছর আবার পরীক্ষা দিয়েছিলেন। এই পরীক্ষায় তিনি ৭২০-এর মধ্যে ৬০৯ নম্বর পেয়েছেন, যার ফলে তাঁর র‍্যাঙ্ক ১১,০০০-এর মধ্যেই থাকবে বলে আশা করা যায়। এর সাথে পরবর্তী পড়াশোনার প্রস্তুতিও শুরু করেছেন সুহেল। এই সাফল্যের পর তিনি জানান যে, এটি শুধুমাত্র বছরের পর বছর তার কঠোর পরিশ্রমের ফল নয়, এর পেছনে তার পরিবারের আত্মত্যাগও জড়িয়ে রয়েছে। মহম্মদ সুহেল এখন তাঁর দৈনিক মজুরির কাজ করার পাশাপাশি এমবিবিএস কোর্সে আসন নিশ্চিত করার দিকে মনোনিবেশ করেছেন। আর্থিক প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি তাঁর মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাঁর বিশ্বাস সংগ্রামের পর জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য সাধন হবেই, তারজন্যই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সুহেল।

আরও Neet Success Story