অনন্যা সরকার, কলকাতা: ভোজনরসিক বাঙালিদের কাছে বর্ষাকালের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল ইলিশ (Ilish)। ভাজা, ভাপা, পাতুরি বা সর্ষে ইলিশ – পদ যাই হোক না কেন, ইলিশ নিয়ে সবচেয়ে বেশি উচ্ছ্বাস চোখে পড়ে এই মরশুমে। রূপোলি শষ্যের ল্যাজা থেকে মুড়ো, এমনকি ভাজার তেলটুকুও বাঙালির ভীষন পছন্দের। আসলে, ইলিশ শুধুই একটা মাছ নয়, এর সাথে জড়িয়ে রয়েছে অনেক আবেগও। তবে মরশুমের শুরু থেকেই এবছরের ইলিশের চাহিদার তুলনায় যোগান কম ছিল। ফলে দামও চড়েছিল প্রচুর। তবে কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই ছবিটা পাল্টাতে শুরু করেছে। আবহাওয়ার পরিবর্তন হতেই প্রচুর পরিমাণে ইলিশ বাজারে পাঠাতে থাকেন মৎস্যজীবীরা। ভিনরাজ্য থেকেও বেড়েছে মাছের যোগান। এখন পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ৫০০ টাকা দরে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। বাজারে ৫০০-৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ খুব বিকোচ্ছে বাজারে। তবে দুর্গাপুজোর আগেই বড় আকারের ইলিশ আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
বড় ইলিশের অপেক্ষায় বাঙালি
এবছর মরশুমের শুরু থেকেই ইলিশের দাম ছিল আকাশছোঁয়া। ৭০০-৮০০ গ্রাম ইলিশের দাম ৭০০-৮০০ টাকায় পৌঁছেছিল। তবে, এখন প্রচুর টাটকা মাছ আমদানি করা হচ্ছে। যদিও বড় সাইজের ইলিশের দাম এখনও ২,২০০ টাকার ওপরেই রয়েছে। একটা ভালো ইলিশ চিনে নেওয়া যায় তার আকৃতি দেখে। এর আকৃতি হয় পটলের মতো। অর্থাৎ, পেটের দিকটা মোটা থাকে, আর মাথা ও নীচের দিকটা হয় সরু হয়। যে মাছের পেট মোটা থাকে, সেগুলির স্বাদ সবচেয়ে ভালো হয়।
বর্ষা এলেই ইলিশ উৎসবে মেতে ওঠে বাঙালি। বাইরে অঝোরধারায় বৃষ্টি আর গরম গরম ইলিশ মাছ ভাজা – দুপুরের মেনু পুরো জমে যায়। মূলত বর্ষার মাস, আষাঢ় ও শ্রাবণজুড়ে বাংলার হেঁসেল ইলিশের গন্ধে ম-ম করে। সম্প্রতি শোনা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের বাজারগুলি গুজরাট ও মায়ানমারের ইলিশে ছেয়ে গেছে। ফলে দামও কমেছে কিছুটা। তবে বাংলার নদী বা মোহনার মাছের মতো স্বাদ সেই ভিনরাজ্যের মাছে মেলা ভার। তবে মৎস্য ব্যবসার সাথে জড়িত ব্যক্তিরা জানাচ্ছেন, বড় আকারের ইলিশের বেশিরভাগই গুজরাট থেকে আসে না, বরং কিছুটা আগে ধরা কোল্ড স্টোরেজের মাছও রয়েছে এর মধ্যে। পুজোর আগের এক মাস বড় ইলিশ ধরার প্রচেষ্টা জারি থাকবে বলে জানিয়েছেন মৎস্যজীবীরা। ভালো মানের ইলিশ ধরা পড়বে বলেই আশা করছেন তাঁরা।
আরও পড়ুন: মাত্র ১১০ টাকায় কলকাতা থেকে ট্রেনে পৌঁছে যান পুরী, রইল সম্পূর্ণ গাইড
এই মরশুমে বেশিরভাগ দিনই আবহাওয়া খারাপ থাকায় সমুদ্র উত্তাল ছিল। তাই মাছ ধরার ট্রলারগুলো একবারে দুই-তিন দিনের বেশি সমুদ্রে থেকে মাছ ধরতে পারেনি, ফলে কম মাছ নিয়েই তাদের ফিরে আসতে হয়। এখন বাজারে ইলিশের সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে এবং এরকম পরিস্থিতিতে ইলিশের দাম আরও কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতি বছর দুর্গোৎসবের আগে বাংলার বাজার ইলিশে ভরে যায়, বাংলাদেশ ও মায়ানমার থেকেও ইলিশ আসে। তবে এবছর বঙ্গোপসাগরে ইলিশের পরিমাণ কম থাকায় গুজরাটই হয়ে উঠেছে সরবরাহের প্রধান উৎস। তা সত্ত্বেও, মৎস্যজীবীরা মনে করছেন যে, পরিস্থিতি যেকোনও মুহূর্তে পাল্টে যেতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের নদী ও মোহনা থেকেই প্রচুর রূপোলি শষ্য মিলতে পারে।










