প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ভারতের এডুকেশন সিস্টেম নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দিল্লিতে আন্দোলনে নেমেছে ককরোচ জনতা পার্টি। প্রথম দিন থেকে তাদের দাবি এই ঘটনার দায় নিতে হবে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে এবং পদত্যাগ করতে হবে দ্রুত। এই বিষয়ে বিভিন্ন বিরোধী পার্টি এসএফআই, সমাজবাদি পার্টি, কংগ্রেস, তৃণমূল-সহ একাধিক দল তাদের সমর্থন জানিয়েছে। আর এবার এই তর্ক বিতর্কের মাঝেই বড় বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi)। বিক্ষোভরত পড়ুয়াদের দাবি দাওয়া মানতে সরকার যে আন্তরিক সেটা আরও একবার বুঝিয়ে দিলেন তিনি।
আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে বিশেষ বার্তা মোদির
গতকাল, বুধবার আন্দোলনরত পড়ুয়াদের লাঠিচার্জ করে দিল্লি পুলিশ। তাদের সরানোর চেষ্টা হয়। এই পরিস্থিতিতে দলের মুখ্য মুখপাত্র সৌরভ দাস স্পষ্ট করে দেন যে, এই দাবি নিয়ে কোনও আপস হবে না এবং তা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভ চলবে। এদিকে পড়ুয়াদের আন্দোলন, বিরোধীদের সমবেত প্রতিবাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ফের পড়ুয়াদের উদ্দেশে বড়সড় বার্তা দিলেন। এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন যে, “পড়ুয়াদের দাবি মেনে প্রশ্নফাঁসের ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে এগোচ্ছে সরকার। প্রত্যেক দোষী যাতে দ্রুত কঠোর শাস্তি পায়, সেটা নিশ্চিত করতে সরকার ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠন করছে। ইতিমধ্যেই উপযুক্ত পদক্ষেপ করার জন্য সব দপ্তরের আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছি।”
কী বলছেন জেপি নাড্ডা?
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট জানিয়েছেন, “ছাত্রদের থেকে গুরুত্বপূর্ণ আমাদের কাছে কিছুই নয়। তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আপস করবে না সরকার। দেশের যুবসমাজের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করাটাই আমাদের লক্ষ্য।” এদিকে যুবসমাজের এই আন্দোলন দিল্লির গণ্ডি পেরিয়ে দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে। এমনকি অনেক বিরোধী পার্টি নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে পড়ুয়াদের ওই আন্দোলনকে কাজে লাগাচ্ছে। এই নিয়ে জেপি নাড্ডা অভিযোগ করেছিলেন যে, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুতর বিষয়কে রাজনৈতিক হাতিয়ার করা উচিত নয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্বশীল এবং যেকোনও বিষয়ে উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে সক্রিয়। তাই দোষারোপের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে কোন কারণে প্রশ্নফাঁস হচ্ছে, সেই সমাধান খুঁজে বের করা প্রয়োজন।”
আরও পড়ুন: জাতিগত শংসাপত্র যাচাইয়ে জমির দলিল বাধ্যতামূলক নয়, স্পষ্ট নির্দেশ রাজ্যের
নিট প্রশ্নফাঁসের কাণ্ডে যাঁকে ঘিরে অভিযোগের পাহাড়, সেই ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের জন্য গর্জে উঠেছে গোটা দেশ। আর তাতেই প্রশ্ন উঠছে, যুব সমাজের চাপে পরে কি সরানো হবে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে? তবে সেই সম্ভাবনা একেবারেই নেই বলে আশা রাখছেন রাজনীতি সমালোচকরা। কারণ কেন্দ্রীয় সরকার মনে করছে, নিটের প্রশ্ন ফাঁসের দায় কোনওমতেই শিক্ষামন্ত্রীর নয়। তাই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া বা বরখাস্ত করা হবে না। এখন দেখার নিট প্রশ্ন ফাঁসের কারণ খুঁজতে কতটা সফলতা অর্জন করতে পারে মোদি সরকার। তবে, আপাতত আন্দোলনরত পড়ুয়ারা দাবি জানাচ্ছে, স্বচ্ছতা ফিরে আসুক এই ধরনের পরীক্ষায়।










