আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: বিদেশে ঘুরতে যাওয়া হোক কিংবা পড়াশোনা বা চাকরির জন্য অন্য দেশে পাড়ি দেওয়া, পাসপোর্ট (Passport) ছাড়া কোনওটাই সম্ভব নয়। এটি কিন্তু শুধুমাত্র এক দেশ থেকে আরেক দেশে যাওয়ার চাবিকাঠি নয়, বরং নাগরিকত্ব ও পরিচয়েরও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। তবে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে গিয়ে ভুল তথ্য, অসম্পূর্ণ নথি কিংবা ঠিকানা সংক্রান্ত গরমিলের কারণে অনেক সময় সাধারণ মানুষকে সমস্যায় পড়তে হয়। তাই আবেদন করার আগে পুরো প্রক্রিয়াটি জানা থাকলে কাজ অনেকটাই সহজ হয় এবং ভুল হওয়ার সম্ভাবনাও কমে। সাধারণত পাসপোর্টের জন্য অনলাইনে পাসপোর্ট সেবা পোর্টাল (Passport Seva Portal)-এ রেজিস্ট্রেশন করে আবেদন করতে হয়। এরপর ফর্ম ফিলাপ করে ফি জমা দিতে হয়, এরপর পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্র (Passport Seva Kendra) বা পোস্ট অফিস পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্র (Post Office Passport Seva Kendra)-তে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হয়।
আবেদন থেকে পুলিশ ভেরিফিকেশন, কীভাবে তৈরি হয় পাসপোর্ট?
অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস নিয়ে নির্দিষ্ট কেন্দ্রে যেতে হয়। সেখানে কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ছবি ও বায়োমেট্রিক তথ্য নেওয়া হয়। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী আবেদনকারীর ঠিকানায় পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়। নথিতে গন্ডগোল থাকলে প্রক্রিয়াটি ওখানেই থেমে যায়, যদি সমস্ত তথ্য সঠিক থাকে, তাহলে পরবর্তী ধাপে পাসপোর্ট তৈরির কাজ এগোয় এবং একদম শেষ ধাপে সেটি স্পিড পোস্টের মাধ্যমে আবেদনকারীর ঠিকানায় পাঠানো হয়। দ্রুত পাসপোর্ট প্রয়োজন হলে তৎকাল (Tatkal) পরিষেবাও নেওয়া যায়। তবে এই পরিষেবার জন্য সাধারণ আবেদনের তুলনায় বেশি ফি দিতে হয়।
ফর্ম পূরণের সময় কোন ভুলগুলি এড়াবেন?
আবেদনপত্রে নিজের নাম এবং নামের বানান, জন্মতারিখ, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা-সহ প্রতিটি তথ্য ঠিকঠাক ভাবে দিতে হবে। নামের বানান বা অন্য কোনও তথ্যের ক্ষেত্রে সামান্য গরমিলও পরবর্তীতে সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই ফর্ম জমা দেওয়ার আগে সব তথ্য ভালো করে যাচাই করা জরুরি। এতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কম। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ৩৬ পৃষ্ঠার সাধারণ পাসপোর্টের ফি ২,৫০০ টাকা এবং ৬০ পৃষ্ঠার জন্য ৩,৫০০ টাকা। তৎকাল পরিষেবায় একই পৃষ্ঠার জন্য যথাক্রমে ৫,০০০ ও ৬,০০০ টাকা লাগে। নাবালকদের ক্ষেত্রে ফি আলাদা।
আরও পড়ুন: রাজ্যের এইসব কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
পাসপোর্টের স্টেটাস দেখবেন কীভাবে?
আবেদন করার পর পাসপোর্ট সেবা পোর্টাল থেকেই স্টেটাস দেখা যায়। ট্রাক এপ্লিকেশন স্ট্যাটাস (Track Application Status) অপশনে গিয়ে ফাইল নম্বর ও জন্মতারিখ দিলেই আবেদনের বর্তমান অবস্থা জানা যায়। কোনও কারণে আবেদন বাতিল হলে প্রথমে তার কারণ খুঁজে প্রয়োজনীয় সংশোধন করে ফের আবেদন করতে হবে। আবার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে বা কোন তথ্য পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে ‘Re-issue’ পরিষেবার মাধ্যমে আবেদন করা যায়। বিয়ের পর নাম বা ঠিকানা বদলালেও সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র দিয়ে রি-ইস্যুর আবেদন করা সম্ভব। পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে প্রথমে পুলিশে রিপোর্ট করা আবশ্যক, তারপর নতুন করে রি-ইস্যুর জন্য আবেদন করতে হয়।









