আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার বুকিংয়ের (Gas Cylinder Booking) ক্ষেত্রে বড়সড় নিয়ম বদল করল কেন্দ্র। এত দিন গ্রামীণ এলাকার গ্রাহকদের একটি সিলিন্ডার নেওয়ার পর আরেকটি সিলিন্ডার বুক করতে ৪৫ দিন অপেক্ষা করতে হত। এবার সেই সময়সীমা কমিয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে। শুধু গ্রাম নয়, শহরের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, এখন থেকে কোনও গৃহস্থালির গ্রাহকই একটি সিলিন্ডার নেওয়ার পর পরবর্তী সিলিন্ডার বুক করতে ২৫ দিনের বেশি অপেক্ষা করতে হবে না। সোমবার এই পরিবর্তনের কথা জানান কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী সুরেশ গোপী। নতুন নিয়ম দ্রুত চালু করা হবে। সেই জন্য তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে ইতিমধ্যেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় শিথিল নিয়ম
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাব পড়েছিল দেশের এলপিজি সরবরাহ ব্যবস্থাতেও। সহজে গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাধ্য হয়েই তখন সিলিন্ডার বুকিংয়ের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিধিনিষেধ চালু করা হয়। গ্রামীণ গ্রাহকদের জন্য ৪৫ দিনের ব্যবধানও সেই ব্যবস্থারই অংশ ছিল। তবে বর্তমানে সরবরাহর পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। একই সঙ্গে সিলিন্ডারের জন্য অপেক্ষারত গ্রাহকের সংখ্যাও কিছুটা কমেছে। এই পরিস্থিতিতে পুরনো বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। ফলে গ্রাম ও শহরের জন্য আলাদা নিয়ম না রেখে সমস্ত গৃহস্থালির গ্রাহকের ক্ষেত্রেই ২৫ দিনের ব্যবধান নির্ধারণ করা হয়েছে।
এলপিজি বিক্রিতে পতন, নজর প্রাকৃতিক গ্যাসে
এদিকে দেশের এলপিজি বিক্রির পরিসংখ্যানেও পরিবর্তনের ছবি ধরা পড়েছে। অগস্টে রান্নার গ্যাসের বিক্রি ১৬.১ শতাংশ কমে ২৪.২ লক্ষ টনে নেমেছে। একইভাবে জুলাইয়েও বিক্রি ১৭.৪ শতাংশ কমেছিল। শিল্পমহলের একাংশের মতে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের পর শিল্প ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে কিছু গ্রাহক প্রাকৃতিক গ্যাসকেই বেশি নির্ভরযোগ্য বলে মনে করছেন। তাই তাঁরা পাইপের মাধ্যমে সরবরাহ করা প্রাকৃতিক গ্যাসের দিকে ঝুঁকেছেন। জুনে বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের পর মাসিক হিসাবে এলপিজি বিক্রি ৮.৬ শতাংশ বেড়ে ২১.৮ লক্ষ টন হয়েছিল। তবে আগের বছরের তুলনায় সেই পরিমাণ কম ছিল। অগস্টের বিক্রিও ২০২৪ সালের ২৭.৭ লক্ষ টনের তুলনায় ১২.৬ শতাংশ কম।
আরও পড়ুনঃ রাজ্যের এইসব কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
বাড়ল বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম
অন্যদিকে, বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত এলপিজি সিলিন্ডারের দামও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। হোটেল, রেস্তরাঁ-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত ১৯ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৯ টাকা ৫০ পয়সা বাড়িয়ে ২৭৪৭ টাকা ৫০ পয়সা করা হয়েছে। আগে এই সিলিন্ডারের দাম ছিল ২৭৩৮ টাকা। ফলে একদিকে যেমন গৃহস্থালির গ্রাহকদের জন্য বুকিংয়ের ব্যবধান কমেছে, অন্যদিকে বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে সিলিন্ডারের দাম সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে।









