বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: এমনটা বোধহয় হওয়ার কথা ছিল না। 2026 IPF বিশ্ব সাব জুনিয়র ক্লাসিক পাওয়ারলিফটিংয়ে (Powerlifting) 47 কেজির বিভাগে 140 কেজি ওজন তুলে ভারতের জন্য রূপো জিতেছেন বাংলার মেয়ে কেয়া ব্যানার্জী (Keyaa Banerjee)। আর এই সাফল্য গায়ে মেখে নেওয়ার পর আর পাঁচজন পদকজয়ীর মতো কেয়াও ভেবেছিলেন বোধহয়, প্রশংসায় ভরিয়ে দেবেন দেশবাসী। ভেবেছিলেন, আগের অবস্থা থেকে কিছুটা হলেও বদলাবে পরিস্থিতি। কিন্তু তেমনটা হল না। পাওয়ারলিফটিং এ রূপো জিতে দেশের মুখজ্জ্বল করেও ট্রোলিং, বুলিং ও মর্ফড ছবি সহ নোংরামির শিকার হতে হচ্ছে বাংলার মেয়েকে।
দেশের জন্য পদক জিতেও যোগ্য সম্মান পেলেন না কেয়া
পাওয়ারলিফটিং প্রতিযোগিতায় দেশের জন্য রুপোর পদক জেতা মোটেও মুখের কথা নয়। লড়াই করতে করতে সেটা বুঝেছিলেন কেয়া। তবে শেষ পর্যন্ত ধরা দিয়েছিল সাফল্য। ভেবেছিলেন হয়তো পরিস্থিতি বদলাবে। দেশের নাম উজ্জ্বল করায় সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে সমাজে একটা আলাদা সম্মান পাবেন তিনি। আসলে বড় সাফল্যের পর প্রশংসা পাওয়ার আশা থাকে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। কেয়াও তাঁদের দলেরই একজন। তবে দেশকে পদক পাইয়ে দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কদর্য সব ভাষার শিকার হতে হল এই অ্যাথলিটকে।
অভাবনীয় সাফল্যের পর একেবারে উল্টো ঘটনা ঘটছে কেয়ার সাথে। কোথায় সোশ্যাল মিডিয়ায় সকলে প্রশংসায় ভরিয়ে দেবেন তা না উল্টে কেয়াকে হতে হচ্ছে সীমাহীন ট্রলিংয়ের শিকার। AI দিয়ে কেয়ার ছবি বিকৃত করা থেকে শুরু করে যৌন হেনস্থা, বুলিং কিছুই বাদ যাচ্ছে না। আর যাঁরা এগুলো করছেন তাঁরা খুব সম্ভবত নিজেরাও জানেন না কেন দেশের জন্য গর্ব বয়ে আনা কেয়াকে এভাবে আক্রমণ করছেন!
It is extremely disheartening to see a woman who won silver medal for India in deadlifting is facing sexual harassment
—Keya Banerji calls out online abuse pic.twitter.com/RVvHh7844s
— The Indian Idiot (@theindianidiot) September 4, 2026
সাধারণত সোশ্যাল মিডিয়ার জগত থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখা কেয়া ব্যানার্জী দীর্ঘ ট্রলিং, বুলিং এর শিকার হয়ে শেষমেষ নেট দুনিয়ায় মুখ খুলেছেন। ভারতের হয়ে রূপো জেতা অ্যাথলিট জানিয়েছেন, “সম্প্রতি আমি 2026 IPF বিশ্ব সাব জুনিয়র ক্লাসিক পাওয়ারলিফটিংয়ে 140 কেজি ওজন তুলে দেশের জন্য রূপো জিতেছি। সে জন্য যাঁরা আমায় সমর্থন করেছিলেন এবং শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তবে একজন ভারতীয় মহিলা অ্যাথলিট হিসেবে জঘন্য বিষয় ঘটেছে আমার সাথে।”
আরও পড়ুন: পুজোর আগেই ট্রেনে করে বাংলাদেশ! শীঘ্রই চলতে পারে মৈত্রী, বন্ধন, মিতালি এক্সপ্রেস
কেয়া খুব পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর বডি শেমিং করা হচ্ছে। এমনকি নানান অ্যাকাউন্ট থেকে তাঁকে নোংরা নোংরা মন্তব্য করা হয়েছে বিগত কয়েক দিনে। সবচেয়ে বড় বিষয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় AI ব্যবহার করে কেয়ার ছবি বিকৃত করে ছাড়া হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিয়ে কেয়ার মুখ এবং শরীরকে খুব বাজে ভাবে এডিট করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। যৌন হেনস্থা করা হচ্ছে তাঁকে। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর নিজের ফিডে নিজের বিকৃত ছবি দেখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তিনি। সচরাচর সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাক্টিভ না থাকলেও সাম্প্রতিক কিছু নক্কারজনক ঘটনায় বাধ্য হয়ে সমাজ মাধ্যমে নিজের ক্ষোভ উপড়ে দিয়েছেন বাংলার মেয়ে কেয়া।










