‘বকেয়া DA মেটান’ ইন্দু মালহোত্রা কমিটির বৈঠকের আগেই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে গেল চিঠি

Published:

Dearness Allowance

অনন্যা সরকার, কলকাতা: রাজ্য সরকার পোষিত এবং সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা তাঁদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance) পাবেন কিনা, তা নিয়ে রীতিমত জলঘোলা শুরু হয়েছে। এগিয়ে আসছে পুজো, মাস খানেক মতো বাকি। তবুও বকেয়া পরিশোধ নিয়ে সরকারের তরফ থেকে এখনও কোনও স্পষ্ট বার্তা সামনে আসেনি। এমতাবস্থায়, কর্মচারীদের একাংশ সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা অবিলম্বে পরিশোধের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) চিঠি লিখেছেন।

অবিলম্বে বকেয়া ডিএ মেটানোর জন্য সরকারি কর্মীদের চিঠি মুখ্যমন্ত্রীকে 

শনিবার কলকাতার নিউ টাউন কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত হয় ‘বিদ্যাসাগর শিক্ষা সম্মান’ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মালহোত্রা কমিটির কথা উল্লেখ করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে রাজ্য সরকার কমিটির সুপারিশ অনুসারে কাজ করবে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, বকেয়া মহার্ঘ ভাতার জন্য সংগ্রাম দীর্ঘদিন ধরে চলছে সেটা সকলেরই জানা। পূর্বতন সরকার সুপ্রিম কোর্টের আদেশে ভাতার একটা অংশ মেটাতে বাধ্য হয়েছিল। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের ইতিমধ্যেই আরেকটি অংশ বকেয়া মেটানো হয়েছে। তবে  শিক্ষকদের ডিএ-এর বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, কারণ বিষয়টি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। তার সাথে মুখ্যমন্ত্রী এও স্পষ্ট করেন যে,  মালহোত্রা কমিটি যে যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই মেনে চলবে রাজ্য। 

শিক্ষক দিবসের এই অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারী এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের বকেয়া ভাতা পরিশোধ করতে রাজ্যের প্রায় ১২,০০০ কোটি টাকা খরচ হবে। তাঁর কথায়, সরকার একবারে এত বড় অঙ্কের টাকা পরিশোধ করতে পারবে না। তবে, মালহোত্রা কমিটি যদি কোনও নির্দেশ জারি করে, তাহলে যথাসম্ভব সহযোগিতা করা হবে। আর ঠিক এখানেই শিক্ষকদের একটি অংশ আপত্তি তুলেছে।

আরও পড়ুন: ২২,৪৫০ থেকে ৫৭ হাজার! অষ্টম পে কমিশনের পেনশন নিয়ে বড় খবর

এরপরই অভাব অভিযোগ জানিয়ে সোমবার বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মী সমিতি মুখ্যমন্ত্রীকে একটি চিঠি লিখেছে। এই সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন যে, সুপ্রিম কোর্ট দ্বারা নিযুক্ত ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বাধীন পর্যবেক্ষণ কমিটিকে প্রাথমিকভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বকেয়া মহার্ঘ ভাতার মোট পরিমাণ নির্ধারণ করা, সেই টাকা মেটানোর সময়সূচী তৈরি করা এবং রাজ্য সরকার সেই সময়সূচী মেনে চলছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা ও নজরদারি চালানো। অর্থাৎ, মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হবে কি হবে না, সে বিষয়ে সুপারিশ করা কমিটির এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না। 

আরও পড়ুন: রাজ্যের এইসব কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

তাই, শিক্ষা কর্মীদের সংগঠনের তরফে মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে সমস্ত বকেয়া মহার্ঘ ভাতা পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। নির্বাচনী প্রচারের সময়ও এই অঙ্গীকার বার বার করা হয়। তাহলে, এখন কেন কমিটির সিদ্ধান্তের কথা বলা হচ্ছে? এটা কি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের শামিল নয়? স্বপন মন্ডল জানান, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের বিষয়টি তুলে মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাঁরা চান পূজার আগেই মহার্ঘ ভাতার অন্তত একটি কিস্তি মেটানো করা হোক। তবে শিক্ষকদের আরেক অংশ বলেন, মুখ্যমন্ত্রী এটা কখনও বলেননি যে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হবে না। এর সঙ্গে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁদের দৃঢ় বিশ্বাস সরকার যথাসময়ে বকেয়া অর্থ অবশ্যই মেটাবে।