টোটোচালকের ছেলে হবে ডাক্তার! চরম দারিদ্র্যকে হারিয়ে NEET ক্র্যাক গঙ্গারামপুরের বাপনের

Published:

NEET UG Success Story of Bapan Halder

অনন্যা সরকার, দক্ষিণ দিনাজপুর: সাফল্যের রাস্তায় আসে অনেক বাধা বিপত্তি। তবে সমস্ত প্রতিকূলতাকে কাটিয়ে দৃঢ় সংকল্পের সাথে এগিয়ে চললে সাফল্য অবশ্যই মেলে। যেমনটা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরের বাসিন্দা বাপন হালদার (NEET UG Success Story of Bapan Halder)। অভাব অনটন সত্ত্বেও তিনি সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা, নিট (NEET)-এ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। মেধা তালিকায় তাঁর স্থান ২৪,৫৮৪ এবং সংরক্ষিত বিভাগে ৬০০ র‍্যাঙ্ক অধিকার করেছেন। ফলাফল ঘোষণার পর পাড়া-প্রতিবেশী থেকে আত্মীয়-স্বজন – সবাই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তাঁর এই সাফল্যে। তবে, সাফল্যের পাশাপাশি আর্থিক অনটনের কঠোর বাস্তবতাও রয়ে গেছে।

অভাব অনটনের মধ্যে থেকেই নিট পরীক্ষায় সাফল্য পেলেন বাপন

গঙ্গারামপুর শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পিডব্লিউডি পাড়ায় একটি ছোট ঘরে বাপনের বড় হয়ে ওঠা। তাঁর বাবা ভবেশ হালদার টোটো (ই-রিক্সা) চালিয়ে বিভিন্ন দোকানে মুদি সামগ্রী বিক্রি করে সংসার চালান। বাপনের মা ইতি হালদার একজন গৃহবধূ। বাপন ও তাঁর ভাই রূপমকে নিয়ে চার সদস্যের এই পরিবারটি অত্যন্ত কষ্টে দিন গুজরান করে। ভবেশের সীমিত আয়ে দুবেলা দুমুঠো অন্ন জোগাড় করতেই হিমশিম খেতে হয়।

বাপনের বাবা জানান, ছেলে যে কোনো একটি পরীক্ষা দেওয়ার কথা বলেছিল তা তিনি জানতেন, কিন্তু নিট পরীক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে তাঁর কোনো ধারণাই ছিল না। ফলাফল প্রকাশের পর প্রতিবেশীদের কাছ থেকেই তিনি জানতে পারেন যে, এই পরীক্ষায় সাফল্য পাওয়া ডাক্তার হওয়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আনন্দে আপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

আরও পড়ুন: পরপর চারবার ব্যর্থ হয়েও হাল ছাড়েননি, প্রথমে IPS, তারপর IAS হয়ে স্বপ্ন পূরণ বিকাশ কুণ্ডুর

দারিদ্র্য কখনও বাপনের আত্মবিশ্বাসকে টলাতে পারেনি। তিনি তাঁর বাবার কঠোর পরিশ্রমকেই নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা বলে মনে করেন। আর্থিক সীমাবদ্ধতা তাঁকে তাঁর লক্ষ্য থেকে কখনও সরাতে পারেনি।।এখন তার স্বপ্ন এমবিবিএস (MBBS) ডিগ্রি অর্জন করে একজন দক্ষ চিকিৎসক হওয়া ও সাধারণ মানুষের সেবা করা। তবে, ডাক্তারি পড়ার খরচ নিয়ে পরিবারটি গভীর চিন্তায় পড়ে। তবে বাপনের বাবার আশা,  প্রশাসন এবং সমাজের সহৃদয় ব্যক্তিদের সহায়তায় তাঁর ছেলে একদিন নিশ্চয় তাঁর ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করবে এবং মানুষের সেবা করবে।

google button