আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: বিজ্ঞানের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা ব্যবস্থাতেও আসছে একের পর এক নতুন পরিবর্তন। একসময় উন্নত চিকিৎসা ও আধুনিক প্রযুক্তির জন্য বিদেশের দিকে তাকিয়ে থাকতে হত ভারতকে। কিন্তু সময় বদলেছে। দেশের তরুণ প্রজন্ম নিজেদের উদ্ভাবনী শক্তিতে নতুন নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় করাচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে (Artificial Intelligence) কাজে লাগিয়ে মাত্র ৬০ সেকেন্ডে হৃদ্যন্ত্র ও শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করার বিশেষ যন্ত্র তৈরি করলেন দুর্গাপুরের BCRCP-এর প্রাক্তনী তুনির সাহু (Tunir Sahoo)। তাঁর তৈরি এই যন্ত্রের নাম ‘জিভাস্কোপ’(JivaScope )।
কেন তৈরি করা হল এই বিশেষ যন্ত্র?
মূলত উন্নত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ যাতে শহরের পাশাপাশি গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছেও পৌঁছে যায়, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। জিভাস্কোপের মাধ্যমে হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসের শব্দ পরীক্ষা করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে কোনও অস্বাভাবিকতা থাকলে সেটা চিহ্নিত করা যায়। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই যন্ত্র চালানোর জন্য বিদ্যুৎ কিংবা ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন হয় না। ফলে যেখানে আধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা সহজে পৌঁছয় না, সেখানেও প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
আজকের দিনে যেখানে অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রেই আর্থিক লাভের বিষয়টি গুরুত্ব পায়, সেখানে তুনিরের ভাবনায় প্রাধান্য পেয়েছে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবার সুবিধা। বিশেষ করে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষদের কাছে যাতে সহজে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ পৌঁছে দেওয়া যায়, সেটাই তাঁর এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে সামান্য অসুস্থতার জন্যও যাতে বারবার উন্নত পরিকাঠামোর খোঁজে ছুটতে না হয়, সেই ভাবনা থেকেই তাঁর এই আবিষ্কার। প্রযুক্তিকে শুধু ব্যবসার মাধ্যম হিসেবে নয়, মানুষের কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছেন তুনির।
জিভাস্কোপ তৈরির পাশাপাশি স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি নিয়ে আরও নানা পরিকল্পনা রয়েছে তুনিরের। তাঁর এই উদ্ভাবনকে আন্তর্জাতিক স্তরেও তুলে ধরার সুযোগ এসেছে। ২০২৬ সালে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের Mark Mobius Pitch Competition-এ বিশ্বের সেরা পাঁচটি প্রকল্পের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে জিভাস্কোপ। এর আগে ২০২৫ সালে James Dyson Award-এর ভারতীয় বিভাগে জাতীয় বিজয়ীর সম্মানও পেয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: “আমাকে প্রাণে মারার জন্য শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে…” শুক্রবারের ঘটনায় ফের বিস্ফোরক অভিষেক
তরুণ এই বাঙালি উদ্ভাবকের সাফল্য নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে শুধু পুরস্কার বা স্বীকৃতিতেই এই আবিষ্কারের সার্থকতা সীমাবদ্ধ নয়। জিভাস্কোপ যদি ভবিষ্যতে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয় এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মাধ্যমে এর কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে গ্রাম ও প্রান্তিক এলাকার বহু মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।










