অটোচালকের ছেলে হবেন ডাক্তার, অভাবের মধ্যেই NEET-এ অসাধারণ ফল প্রভাতের

Published:

NEET UG Success Story of Prabhat Kumar

অনন্যা সরকার, উত্তরপ্রদেশ: লক্ষ্য অর্জনের প্রবল ইচ্ছা ও উদ্যম থাকলে, আর্থিক অনটন বা সীমিত সামর্থ্য – কোনও কিছুই সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। উত্তরপ্রদেশের জৌনপুর জেলার মাছলিশাহার তহসিলের দেবকিপুর গ্রামের বাসিন্দা প্রভাত কুমার এবছর সফলভাবে নিট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর কিং জর্জ মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে (KGMU) এমবিবিএস (MBBS) কোর্সে ভর্তি হয়ে এই কথাটিই প্রমাণ করে দেখিয়েছেন (NEET UG Success Story of Prabhat Kumar)। প্রভাত একটি দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। সংসারের ভরণপোষণের জন্য তার বাবা মুম্বাইতে অটো-রিকশা চালান। তবুও, আত্মবিশ্বাস, অধ্যবসায় ও অদম্য জেদের জোরে আজ প্রভাত তাঁর ডাক্তারি পড়ার স্বপ্ন পূরণ করেছেন। 

অটোচালক বাবার ছেলেকে ডাক্তার বানানোর লড়াই

প্রভাতের বাবা তাকে সুশিক্ষিত করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। বাবার আস্থার মর্যাদা রেখে, প্রভাত ২০২৬ সালের নিট ইউজি (NEET UG) পরীক্ষায় ৬২৭ নম্বর এবং সর্বভারতীয় স্তরে ৩৮৬৪ র‍্যাঙ্ক অর্জন করে লখনউয়ের কিং জর্জ মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। কেজিএমইউ দেশের অন্যতম সেরা মেডিকেল কলেজ, যা এনআইআরএফ (NIRF) র‍্যাঙ্কিংয়ে অষ্টম স্থানে রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ আধপেটা খেয়ে কঠোর পরিশ্রম, জলপাইগুড়ির দিন মজুরের তিন সন্তান একই সাথে হলেন পুলিশ

প্রভাত কুমার যাদব তার দাদু ইন্দ্র বাহাদুর যাদব, মা বংশরাজি এবং ভাইবোনের সাথে জৌনপুরের মাছলিশাহার তহসিলের দেবকিপুর গ্রামে থাকে। আর তার বাবা, মহেন্দ্র কুমার যাদব বিগত ২০ বছর ধরে মুম্বাইয়ে অটোরিকশা চালান। তিনি সেখানকার একটি ছোট এক কামরার বাড়িতে থাকেন। গাড়ি চালিয়ে যা আয় করেন, তা তিনি পরিবারের ভরণপোষণের জন্য পাঠিয়ে দেন। স্বাভাবিকভাবেই এত সংগ্রামের পর ছেলের কেজিএমইউ-তে ভর্তি হওয়ার খবর পেয়ে মহেন্দ্র কুমার যাদব আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। নাতির সাফল্যে প্রভাতের দাদুও অত্যন্ত খুশি। তিনি বলেন, প্রভাত তার সাফল্যের মাধ্যমে বাবার কঠোর পরিশ্রম ও ত্যাগকে সম্মান জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: বিদেশের কোটি টাকার চাকরি ছেড়ে শুরু করেন UPSC-র প্রস্তুতি, প্রথম প্রচেষ্টাতেই IAS কনিষ্ক

প্রভাত তার প্রাথমিক শিক্ষা গ্রামের স্কুল থেকেই সম্পন্ন করে। সে দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় ৮৯.৪৪% এবং দ্বাদশ শ্রেণিতে ৮৩.৪৪% নম্বর পেয়েছিল। সে প্রায় দুই বছর গ্রামে থেকে নিট (NEET)-এর জন্য প্রস্তুতি নেয়। এরপর, আরও ভালো প্রস্তুতির জন্য প্রভাত চলে আসে কোটায়। সেখানে অ্যালেন একাডেমি তাকে টিউশন ফি-এর ওপর ৫০% ছাড় দেয়। কিন্তু তারপরেও, বাকি ফি জোগাড় করা তার পরিবারের পক্ষে কঠিন ছিল। এই কঠিন সময়ে তার মামা, দয়ারাম যাদব সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। প্রভাত তার প্রথম চেষ্টায় নিট ইউজি পরীক্ষায় ৫০৪ নম্বর পেয়েছিল, যার ফলে সে কোনও সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পায়নি। তাই প্রভাত ঠিক করে এক বছর পড়াশোনা থেকে বিরতি নিয়ে আবার প্রস্তুতি শুরু করবে। অবশেষে এবছর নিট পরীক্ষায় ৬২৭ নম্বর অর্জন করে ৩৮৬৪ সর্বভারতীয় র‍্যাঙ্কটি অর্জন করে নেয় প্রভাত। তার এই সাফল্য কঠিন সময়েও হার না মানা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও লক্ষ্যে অবিচল থাকার দৃঢ় মানসিকতার প্রতিফলন, যা আজ লক্ষ লক্ষ নিট পরীক্ষার্থীদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।