অনন্যা সরকার, জলপাইগুড়ি: অদম্য জেদ, নিষ্ঠা ও আত্মবিশ্বাস মানুষকে সাফল্যে শিখরে নিয়ে যেতে পারে। দৃঢ় সংকল্পের সঙ্গে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে গেলে কোনও কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। যেমনটা সত্যি করে দেখিয়েছেন জলপাইগুড়ির তিন ভাইবোন (Success Story)। তারা নানা প্রতিকূলতা ও অভাবের মধ্যে বড় হয়েছেন। পড়াশোনা করার জন্য খাতা-কলম কেনা তো দূর, এমনও দিন গেছে যেদিন তাঁদের আধপেটা খেয়ে থাকতে হয়েছে। তবুও, দারিদ্র্য তাদের স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। কঠোর পরিশ্রম, অদম্য সংকল্প ও পরিবারকে সাহায্য করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞায় চালিত হয়ে একই পরিবারের তিন ভাইবোন একসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কনস্টেবল (West Bengal Police Constable) পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। শুধু পরিবার নয় তাদের এই সাফল্যে খুশি এলাকাবাসীও। আসুন জলপাইগুড়ির এই কৃতি তিন ভাই বোনের অসামান্য সাফল্যের কাহিনীটি জেনে নেওয়া যাক।
চরম অভাবের মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার অদম্য জেদ
ময়নাগুড়ির উত্তর মাধবডাঙ্গার বাসিন্দা জিতেন রায়ের পরিবারে সাতজন সদস্য। পেশায় দিনমজুর বাবার একার চলতো সংসার। স্বল্প আয় হওয়া সত্ত্বেও, বাবা-মা তাঁদের সন্তানদের পড়াশোনা তার কোনও আঁচ পড়তে দেননি। আর্থিক সংকট এতটাই তীব্র ছিল যে অনেকসময় লেখাপড়ার জন্য দরকারি খাতা-কলম কেনার সামর্থ্যও তাঁদের ছিল না।
তবুও, এই তিন ভাইবোন কঠিন অধ্যবসায়ের সাথে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। অবিনাশ রায়, কমলেশ রায় এবং পম্পা রায় – তাঁরা তিন জনেই ২০২৪ সালের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করেন। তাঁদের এই অভূতপূর্ব সাফল্য লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন: জনস্বার্থ মামলা করছেন? এবার হবে ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা! হুঁশিয়ারি কলকাতা হাইকোর্টের
বড় ভাই অবিনাশ ময়নাগুড়ি হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও ময়নাগুড়ি সুভাষনগর হাই স্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। তারপর ভূগোলে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তাঁর মেজ ভাই কমলেশ রায়ও ময়নাগুড়ি হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং পরে ওয়েস্ট বেঙ্গল কাউন্সিল অফ রবীন্দ্র ওপেন স্কুলিং থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। পরিবারের হাল ধরতে তাঁকে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে হয়, তবুও তিনি কাজের পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যান। তিন সন্তানের সাফল্যে আজ মুখে হাসি ফুটেছে মা-বাবার। সন্তানদের বড় করতে গিয়ে তাঁরা যে কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তার চেয়েও আজকের আনন্দ যেন তাঁদের কাছে অনেকটাই বেশি।










