জনস্বার্থ মামলা করছেন? এবার হবে ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা! হুঁশিয়ারি কলকাতা হাইকোর্টের

Published:

Calcutta High Court

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: উপযুক্ত তথ্য ও প্রমাণ ছাড়াই একগুচ্ছ জনস্বার্থ মামলা জমছে কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court), এবার সেই নিয়ে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার হুঁশিয়ারি দিল উচ্চ আদালত। জানা গিয়েছে, বুধবার হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র বি ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, গুচ্ছ গুচ্ছ ভুয়ো বা তথ্যহীন জনস্বার্থ মামলা (Baseless PIL Cases) দায়েরের প্রবণতা এতটাই বেড়েছে যে সেই মামলাগুলোর আসল উদ্দেশ্যই বিপন্ন হয়ে যাচ্ছে।

১০ লক্ষ টাকা করে জরিমানা নেওয়া হবে!

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গতকাল, বুধবার, হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র বি ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, “জনস্বার্থ মামলার একটি নিদির্ষ্ট নিয়ম রয়েছে। যে কোনও বিষয় নিয়ে মামলা দায়ের করা যায় না। তার উপর এখন যথেষ্ট তথ্য ছাড়াই জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। তাই এই ধরনের ভিত্তিহীন মামলা রুখতে ১০ লক্ষ টাকা করে জরিমানা করা উচিত।” ইতিমধ্যেই গতকাল পর পর কয়েকটি জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে দিয়েছে হাই কোর্ট।

কী বলছেন প্রধান বিচারপতি?

প্রধান বিচারপতির কথায়, “এই ধরনের জনস্বার্থ মামলায় আদালতের নেওয়া জরিমানা থেকে যে অর্থ আদায় হবে, ওই অর্থ বার লাইব্রেরিতে যাবে বই কেনার জন্য। যদি আইনজীবীরা চান যে, এই ধরনের মামলা আদালতের শোনা উচিত, তবে বার লাইব্রেরির জন্য বই কেনার খরচ জোগাতেও তাঁদের প্রস্তুত থাকতে হবে।” এছাড়াও প্রধান বিচারপতি পরামর্শ দেন, “কেন এই ধরনের অপ্রয়োজনীয় মামলার পিছনে অযথা দৌড়োচ্ছেন? কেন নিজের এবং আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট করছেন? এই সবে সময় নষ্ট না করে নিজের স্বপ্ন এবং লক্ষ্যের পিছনে খরচ করুন। নিজের স্বপ্নের পিছনে দৌড়ান।”

আরও পড়ুন: বিদেশের কোটি টাকার চাকরি ছেড়ে শুরু করেন UPSC-র প্রস্তুতি, প্রথম প্রচেষ্টাতেই IAS কনিষ্ক

হাই কোর্ট সূত্রে খবর, চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত ৪৭৫টিরও বেশি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। এর আগে ২০২৫-এ ৬০০-র বেশি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। তবে আইনমহলের মতে, হাই কোর্টের এই কঠোর বার্তা আগামী দিনে যত্রতত্র জনস্বার্থ মামলা করার প্রবণতাকে অনেকটাই দমিয়ে দেবে। কারণ আদালতের প্যানেল ও বিচারব্যবস্থার সময় বাঁচাতে এই ধরনের কড়া পদক্ষেপ সত্যিই প্রয়োজন ছিল। এখন দেখার বাস্তবে সেই পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়।