প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দীপাবলির আনন্দের মাঝেই গোবর্ধন পুজোর (Govardhan Puja 2026) প্রস্তুতি চলছে জোর কদমে। চলতি বছর, আগামী ১০ নভেম্বর, মঙ্গলবার পালিত হতে চলেছে অন্নকূট উৎসব (Annakut Festival Significance)। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আরাধনায় এই বিশেষ দিনে পুজোর অন্যতম আকর্ষণ হল ৫৬ রকমের খাবার বা ‘ছাপ্পান ভোগ’ নিবেদন। কিন্তু জানেন এই পুজো কেন চালু হয়েছিল? রইল সেই কারণ।
কেন চালু হয়েছিল গোবর্ধন পুজো?
শাস্ত্র মতে গোবর্ধন পুজোয় অন্নকূটের বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, একবার দেবরাজ ইন্দ্রের অহংকার চূর্ণ করার জন্য শ্রীকৃষ্ণ যখন গোবর্ধন পর্বতের পুজো করেন, তখন ইন্দ্র রেগে গিয়ে ভারী বৃষ্টিপাত ঘটান। এদিকে ভয়ংকর ঝড় বৃষ্টির জেরে বৃন্দাবন ডুবে যেতে শুরু করে। তখন কৃষ্ণ বৃ্ন্দাবনবাসীকে বাঁচাতে গোবর্ধন পর্বতে নিয়ে যান ও কনিষ্ঠা আঙুল দিয়ে সেই পর্বত তুলে ৭ দিন সকলকে সেখানে আশ্রয় দেন। এ সময় সকলে নিজের সঙ্গে যে খাদ্যসামগ্রী এনেছিলেন, তার মিশ্রণ বানিয়ে সকলের মধ্যে বিতরণ করা হয়। যা কৃষ্ণের বেশ পছন্দ হয়।
এদিকে অহংকারী ইন্দ্ররাজ লজ্জিত হয়ে শেষে শ্রীকৃষ্ণের কাছে আত্মনিবেদন করলেন। পাশাপাশি ব্রজবাসীরা মহারাজ নন্দ-সহ গোবর্দ্ধন পূজার আয়োজন করেন। সেই পূজার উপাচারে অন্নের পাহাড়ের রূপ ধারণ করে। নিয়ম অনুযায়ী, গোবর্ধন পুজোর দিনে সকালে কৃষ্ণের অভিষেক করা হয়। তার পর বাড়িতে বিভিন্ন ব্যঞ্জন তৈরি করে তার ভোগ নিবেদন করা হয়। এইদিন বিশেষত কড়ি-ভাত ও বাজরার কোনও পদ তৈরি করা হয়। তবে সবসময় সকলের সামর্থ্য অনুসারে অন্নকূটের ভোগ লাগানো উচিত।
আরও পড়ুন: জানেন ভাইফোঁটার সূচনা কীভাবে হয়েছিল? রইল সেই কাহিনী
সামর্থ্য অনুসারে অন্নকূটের ভোগ লাগানো উচিত
কোনও কোনও স্থানে আবার মুগডাল ও বাজরার খিচুড়ির ভোগ নিবেদন করা হয়। আবার বিভিন্ন স্থানে কৃষ্ণকে ৫৬ ভোগ নিবেদন করা হয়ে থাকে। তবে অন্নকূটের প্রসাদ পৃথক পৃথক বিতরণ করা হয় না। বরং সমস্ত প্রসাদ একসঙ্গে মিশিয়ে এই প্রসাদ সকলকে দেওয়া হয়। অন্নকূট উৎসবে বিভিন্ন সবজি দিয়ে তৈরি একটি তরকারি, কড়ি-ভাত, লুচি, রুটি, মুগ ডালের খিচুড়ি, বাজরার হালুয়া তৈরি করা হয়। অন্যান্য দেবতাদের স্তরে স্তরে সাজিয়ে নিবেদন করা হয়। আর এই নৈবেদ্যতে থাকে হরেক রকমের সুস্বাদু মিষ্টিও।










