জানেন ভাইফোঁটার সূচনা কীভাবে হয়েছিল? রইল সেই কাহিনী

Published:

Bhai Phonta 2026

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ভাইফোঁটা (Bhai Phonta 2026) বাঙালিদের চিরকালীন সম্প্রীতির উত্‍সব। হিন্দুদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই উত্‍সবটি ভ্রাতৃদ্বিতীয়া নামেও বেশ পরিচিত। প্রতিবছর কার্তিক মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে, কালীপুজোর পরের পরের দিন এই বিশেষ পারিবারিক উৎসবটি (Bhai Phonta Significance) পালিত হয়। এইদিন বোনেরা তাঁদের ভাইয়ের দীর্ঘায়ু কামনা করে এবং তাঁদের গালে চন্দনের বা দইয়ের ফোঁটা দিয়ে থাকে। কিন্তু জানেন কি এই ভাইফোঁটা প্রথম কে প্রচলন করেছিলেন? চলুন আজকের প্রতিবেদনের মাধ্যমে সম্পূর্ণটা জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত।

কে প্রচলন করেন এই ভাতৃদ্বিতীয়া?

শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে ভাতৃদ্বিতীয়া পালিত হয়। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে এ বছর শুক্লা দ্বিতীয়া তিথি শুরু হচ্ছে ১০ নভেম্বর, মঙ্গলবার, দুপুর ২টো ২ মিনিট থেকে পরের দিন ১১ নভেম্বর বুধবার, দুপুর ৩টে ৫৪ মিনিটে। হিন্দু শাস্ত্রে এই ভাইফোঁটার সঙ্গে জুড়ে রয়েছে যম-যমুনার গল্প। এইদিনেই বোন যমুনার ঘরে নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে যান এবং হাতে ফোঁটা নিয়ে এসেছিলেন। আবার সেই দিনে বোন যত্ন করে নিজের হাতে দাদাকে খাইয়ে ছিলেন। বোনের হাতের রন্ধনের স্বাদে এবং আতিথেয়তায় তিনি এতটাই মুগ্ধ হয়ে যান যে যম তারপর এই দিনেই যমদ্বিতীয়া বা ভাতৃদ্বিতীয়া প্রচলন করেন।

জড়িয়ে রয়েছে লক্ষ্মী-নারায়ণের আখ্যান

পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী এই ভাতৃ দ্বিতীয়ার সঙ্গে জড়িত আছে লক্ষ্মী-নারায়ণের আখ্যানও। একবার বিষ্ণু নিজের শিষ্য বালিকে বর দিতে গিয়ে নিজেই তাঁর কাছে একবার বন্দি হয়ে পড়লেন। তখন স্বয়ং মা লক্ষ্মী নারায়ণকে উদ্ধার করতে বালিকে ভাই পাতালেন এবং তাঁকে ফোঁটা দিলেন কার্তিক মাসের শুক্ল পক্ষের দ্বিতীয়াতে। আর উপহার হিসেবে ভাইয়ের কাছে ফেরত চাইলেন স্বামী নারায়ণকে। সেই থেকে পালিত হয়ে আসছে ভাইফোঁটা। এছাড়াও এই উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কৃষ্ণ-সুভদ্রার আখ্যানও।

আরও পড়ুন: জানেন মা কালীর পুজোয় কেন মদ নিবেদন করা হয়?

শাস্ত্র মতে, কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে নরকাসুরকে বধ করেছিলেন কৃষ্ণ। এরপর তিনি দ্বারকায় ফিরে এলে তাঁর কপালে বিজয় তিলক এঁকে দিয়ে মিষ্টি খেতে দিয়েছিলেন বোন সুভদ্রা। তাই সেই থেকেই ভাইয়ের কপালে ফোঁটা দিয়ে ভাইফোঁটা উৎসবের সূচনা হয়।

google button