প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: মা কালীর পুজোয় (Kali Puja 2026) যে সকল সামগ্রী ব্যবহার করা হয়ে থাকে তার মধ্যে অন্যতম হল মদ। এদিকে শাস্ত্রে দেবীর মদ খাওয়ার কথা সরাসরি কোথাও উল্লেখ করা নেই। কিন্ত তাও গৃহস্থের পুজো থেকে শ্মশান সর্বত্রই দেবীর পুজোয় মদ বা কারণবারি উৎসর্গ করা হয়। আসলে তন্ত্রমতে মায়ের পুজোয় (Maa Kali Worship) পঞ্চতত্ত্ব বা পঞ্চ ‘ম’কার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর যার মধ্যে অন্যতম হল এই মদ। তাহলে চলুন আজকের প্রতিবেদনের মাধ্যমে সম্পূর্ণটা জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত।
দেবী কি সত্যিই মদ্যপান করেন?
শক্তিদেবীর মধ্যে একমাত্র মদ খাওয়ার কথা জানা যায় মা দুর্গার ক্ষেত্রে। আসলে মহিষাসুরকে বধের সময় মা দুর্গা বলেছিলেন, ‘গর্জ গর্জ ক্ষণং মূঢ় মধু যাবৎ পিবাম্যহম, ময়া ত্বয়ি হতেহত্রৈব গর্জিষ্যন্ত্যাশু দেবতাঃ।’ যার বাংলা অর্থ করলে দাঁড়ায়- ‘রে মূঢ়, আমি যতক্ষণ মধুপান করি, ততক্ষণ তুই গর্জন করে নে। তারপর আমি তোকে বধ করলেই দেবতারা শীঘ্রই এখানে গর্জন করবেন।’ তবে এক্ষেত্রে মধু কিন্তু মোটেও নেশাজাত পানীয় নয়। আসলে সংস্কৃতে মদের একটি প্রতিশব্দ হল এই মধু। কিন্তু মা কালী মদ কোনোদিনও পান করেনি। তবে বঙ্গে মদ-সহকারে তন্ত্রসিদ্ধ পুজোপদ্ধতির প্রচলন করেছিলেন ঋষি বশিষ্ঠ।
ঋষি বশিষ্ঠের তন্ত্রসাধনার পদ্ধতি
কথিত আছে, মহামুনি বশিষ্ঠদেব বহু বছর তপস্যা করেও সিদ্ধিলাভ করতে পারেননি। এরপরই তিনি ভগবান বিষ্ণুর নির্দেশে তিব্বতে রওনা দেন। সেখানে দেবী তারার উপাসনা পদ্ধতি আয়ত্ত করেন। সেখানই বশিষ্ঠদেব পঞ্চ ‘ম’-কার বা মদ্য, মাংস, মৎস্য, মুদ্রা ও মৈথুন-সহযোগে দেবী আরাধনার পদ্ধতি আয়ত্ত করেন। পরবর্তী সময়ে তন্ত্রসাধনার সেই পদ্ধতিই বশিষ্ঠদেব নিয়ে আসেন এই বঙ্গে এবং পরবর্তীতে বাংলায় এই পুজোর পদ্ধতি প্রচলন করেন।
মা কালীকে মদ নিবেদন করার পিছনে কিছু আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ রয়েছে। আসলে মদ হল মানুষের মোহ, অহংকার, ভয় এবং জাগতিক চেতনাকে ভুলিয়ে দেওয়ার এক অন্যতম উপাদান। তাই সেই হিসেবে সাধক যখন দেবীকে মদ নিবেদন করেন, তখন তা আসলে নিজের ভেতরের সমস্ত পশুবৃত্তি, অহংকার ও নেতিবাচক দিকগুলোকে দেবীর চরণে সমর্পণ করেন। তাই আজও তান্ত্রিক ও বামাচারী পূজাপদ্ধতির একটি বিশেষ অঙ্গ হয়ে উঠেছে এই মদ নিবেদন।










