সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক দারুণ দৃশ্যের সাক্ষী থাকতে চলেছে গোটা বিশ্ব। আগামী ২ আগস্ট, ২০২৭-এ দেখা যাবে শতাব্দীর সবথেকে দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ (Longest Total Solar Eclipse)। সাধারণত পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ তিন মিনিটের কাছাকাছি স্থায়ী হলেও এই বিশেষ গ্রহণের স্থায়িত্ব হবে টানা ৬ মিনিট ২৩ সেকেন্ড। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, ১৯৯১ থেকে ২১৯৪ সালের মধ্যে এটিই হতে চলেছে সবথেকে দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ।
কেন হয় এই সূর্যগ্রহণ?
আসলে সূর্যগ্রহণ একটি মহাজগতিক ঘটনা, যা তখনই ঘটে যখন চাঁদ ঘুরতে ঘুরতে পৃথিবী এবং সূর্যের ঠিক মাঝখানে চলে আসে। যার ফলে চাঁদের ছায়া সূর্যের আলোকে পৃথিবীতে আসতে বাধা দেয় এবং আকাশ সাময়িকভাবে অন্ধকার হয়ে যায়। এটি মূলত অমাবস্যার দিনে ঘটে থাকে। আর সূর্যগ্রহণ তিন প্রকারের হয়। প্রথমত পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ, দ্বিতীয়ত বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ এবং তৃতীয়ত আংশিক সূর্যগ্রহণ।
এই সূর্যগ্রহণ কোথায় কোথায় দেখা যাবে?
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থান নাসার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই গ্রহণটি মরক্কো এবং দক্ষিণ স্পেন থেকে শুরু হবে। তারপর এটি আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, মিশর এবং সৌদি আরবের উপর দিয়ে অগ্রসর হবে। তবে এই গ্রহণের সবথেকে দীর্ঘস্থায়িত্ব দেখা যাবে মিশরের লাক্সর এবং আসওয়ানে। প্রাচীন মন্দিরের জন্য বিখ্যাত এই অঞ্চলে আকাশ সবথেকে বেশি অন্ধকার থাকবে বলেই জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।
তবে হ্যাঁ, অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে সূর্যগ্রহণ কি শুধুমাত্র পৃথিবীতেই হয়? বিজ্ঞানীদের মতে, এটি একটি প্রাকৃতিক বা পূর্ব অনুমান যোগ্য ঘটনা। যেটি সূর্য, চাঁদ এবং গ্রহের অবস্থানের উপরে নির্ভর করে। সেই কারণে পৃথিবী ছাড়াও অন্যান্য গ্রহে সূর্যগ্রহণ হয়। যেমনটা গত বছর মঙ্গল গ্রহ এবং চাঁদেও সূর্যগ্রহণ দেখা গিয়েছিল।
আরও পড়ুন: ‘শতাব্দীর সবথেকে দীর্ঘ সূর্যগ্রহণ, ৬:২৩ মিনিট থাকবে অন্ধকার! জানুন কবে হবে
শতাব্দীর কিছু দীর্ঘতম সূর্যগ্রহণ
না উল্লেখ করলেই নয়, এই শতাব্দীতে আরও বেশ কিছু দীর্ঘ সূর্যগ্রহণের সাক্ষী থাকবে গোটা বিশ্ব। তালিকায় আছে—
- ১২ আগস্ট ২০২৫, যেটির ৬ মিনিট ৬ সেকেন্ড স্থায়িত্ব ছিল।
- ৩০ এপ্রিল ২০৬০, এটির স্থায়িত্ব হবে ৫ মিনিট ১২ সেকেন্ড।
- ২৪ আগস্ট, ২০৬৩। এটির স্থায়িত্ব হবে ৫ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড।
- ১১ মে ২০৮১, এটির স্থায়িত্ব হবে ৫ মিনিট ৪০ সেকেন্ড।
- ৩ সেপ্টেম্বর ২০৮১, এটির স্থায়িত্ব হবে ৫ মিনিট ৩০ সেকেন্ড।
- ২২ মে ২০৯৬, এটির স্থায়িত্ব হবে ৬ মিনিট ৬ সেকেন্ড।
বলে দিই, সূর্যগ্রহণ দেখার সময় কখনও খালি চোখে সূর্যের দিকে তাকানো উচিত নয়। কারণ, সূর্যের অতি বেগুনী রশ্মি রেটিনার ক্ষতি করতে পারে। আর গ্রহণ দেখার সময় অবশ্যই বিশেষ সৌর চশমা বা টেলিস্কোপ পরে নেওয়া সবথেকে বুদ্ধিমানের কাজ।










