৭৫ হাজার টাকা খরচ করে ৩ লক্ষ আয়, আবু ধাবিতে মিষ্টি আলু পাঠাচ্ছেন কৃষক

Published:

Success Story Gonda Farmer Jitendra Maurya

অনন্যা সরকার, উত্তর প্রদেশ: অনেকেই কৃষিকাজকে লাভজনক মনে করেন না। তাই তরুণ প্রজন্মের অনেকেই কৃষক পরিবার থেকে উঠে এসে ভিন্ন পেশার দিকে ঝুঁকছেন। তবে উত্তর প্রদেশের গোন্ডা জেলার এক যুবক তার পড়াশোনার পাশাপাশি সমান তালে চালিয়ে যাচ্ছেন কৃষিকাজ, দেখছেন লাভের মুখও (Success Story)। আইনের ছাত্র জিতেন্দ্র মৌর্য তিন বিঘা জমিতে মিষ্টি আলুর চাষ করছেন। এই চাষে তার প্রায় ৭৫,০০০ টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু তিনি এখন এই ফসল থেকে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা আয় করার আশা করছেন। তবে, তার আয় মিষ্টি আলুর বাজারদরের ওপর নির্ভর করবে। 

মিষ্টি আলু চাষ করে কীভাবে দেখলেন লাভের মুখ?

কৃষক জিতেন্দ্র মৌর্য তাঁর এলএলবি পড়ার পাশাপাশি কৃষিকাজও করেন। বর্তমানে তিনি প্রায় তিন বিঘা জমিতে মিষ্টি আলু চাষ করছেন। এর জন্য তিনি ৭০,০০০ থেকে ৭৫,০০০ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। ফসল পাকার পর তিনি প্রায় ৩ লক্ষ টাকা আয় করার আশা করছেন। বাজারদর ভালো থাকলে ভালো মুনাফা হবে। তবে দাম কমলে তার আয়ও কিছুটা কমতে পারে।

জিতেন্দ্র জানিয়েছেন যে, তিনি তার মিষ্টি আলু চাষের জন্য বেনারসের পাহাড়ি মান্ডি থেকে বীজ নিয়ে এসেছেন। রাসায়নিক সারের বদলে, তিনি গোবর সার ব্যবহার করেন। ফসলের বৃদ্ধির জন্য জমিতে নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার করা জরুরি বলে জানিয়েছেন কৃষক। মিষ্টি আলু লাগানোর প্রায় এক বছর পর সাধারণত ফসল তোলা হয়। দীপাবলির সময় এর চাহিদা বেশি থাকে। তাই, কৃষকরা যদি সঠিক সময়ে তাদের ফসল তুলে বাজারে পাঠাতে পারেন, তাহলে ভালো আয় হতে পারে।

আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপুজোর ভোগে খিচুড়ির সঙ্গে বানান সুস্বাদু ময়মনসিংহের লাবড়া, রইল রেসিপি

জিতেন্দ্র মৌর্যের উৎপাদিত সবজি বিদেশেও সরবরাহ করা হচ্ছে। কয়েক মাস আগে, তাঁর এলাকার ও তার আশেপাশের কিছু কৃষকের জমির সবজি আবুধাবিতে পাঠানো হয়েছিল। এখন, পরীক্ষামূলক চাষের জন্য সেখানে মিষ্টি আলুও পাঠানো হয়েছে। এই পরীক্ষা সফল হলে, ভবিষ্যতে আবুধাবিতেও মিষ্টি আলুর চাহিদা বাড়তে পারে। 

জিতেন্দ্রের পরিবারে বংশপরম্পরায় কৃষিকাজের সাথে যুক্ত। তাঁর বাবা এবং দাদাও কৃষিকাজ করতেন, যে কারণে ছোটবেলা থেকেই তাঁর এই কাজের প্রতি আগ্রহ গড়ে ওঠে। এখন তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি কৃষিকাজ করে নিজের আয় বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। জিতেন্দ্র বিশ্বাস করেন যে, তরুণ প্রজন্ম পড়াশোনার পাশাপাশি পারিবারিক পরম্পরা হিসাবে কৃষিকাজ চালিয়ে যেতে পারে। সঠিক ফসলের নির্বাচন, যথাযথ পরিচর্যা ও বাজারের চাহিদা মাথায় রেখে চাষ করলে নিশ্চিতভাবে ভালো উপার্জন করা যায়।

google button