ড্রাগন ফল চাষে ব্যাপক উন্নতি পিংলার চাষীর, বছরে ১২ লক্ষ টাকারও বেশি আয়

Published:

Success Story of farmer Subrata Mahesh

অনন্যা সরকার, পশ্চিম মেদিনীপুর: চিরাচরিত ফসলের চাষ করে সেভাবে লাভের মুখ দেখতে পান না বলে বহু চাষীই অভিযোগ করেন। বাজারের অবস্থার ওপর নির্ভর করে ফসলের দাম মেলে, তাই সবসময় আশানুরূপ লাভ হয় না। সেই কারণে এখন অনেক চাষীই বিকল্প ফসলের সন্ধান করেন, যা চাষ করতে বেশি খরচ বা পরিশ্রম হয় না কিন্তু আয় হয় ভালো। সেরকমভাবেই, বিকল্প চাষাবাদের খোঁজ করতে গিয়ে পিংলার সুব্রত মহেশ শুরু করেন ড্রাগন ফলের চাষ, যা তাঁকে ব্যাপক সাফল্য এনে দিয়েছে (Success Story of farmer Subrata Mahesh)। তিনি এখন প্রতি মাসে এক লক্ষ টাকারও বেশি আয় করে চাষীদের নয়া দিশা দেখাচ্ছেন।

বিকল্প ফসল চাষ করে লাভের মুখ দেখলেন চাষী

সুব্রত মহেশ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পিংলা এলাকার গো-গ্রামের বাসিন্দা। তিনি চাষাবাদের জন্য একটি বিকল্প ফসল বেছে নিয়েছেন এবং এটি হল ড্রাগন ফল। তাঁর চাষ করা এই ফল কেবল স্থানীয় বাজারেই বিক্রি হয় না, কুয়েত সহ নানা দেশেও রপ্তানি করা হয়। ফল এবং এর চারা বিক্রি করে তিনি বছরে ১২.৫ লক্ষেরও বেশি টাকা আয় করছেন।

সুব্রত প্রথমে মাত্র চারটি খুঁটি ব্যবহার করে ড্রাগন ফল চাষ শুরু করেন। তারপর ধীরে ধীরে তার চাষের এলাকা বাড়তে থাকে। তিনি ‘সুইট ভিয়েতনাম হোয়াইট’ জাতের ড্রাগন ফল দিয়ে শুরু করেছিলেন। বর্তমানে, তিনি তাঁর এক একর জমিতে ৫৫০টি খুঁটি লাগিয়েছেন। এই খুঁটিগুলোতে এখন ইয়েলো, পার্পল, ভিয়েতনাম হাইব্রিড, ইসরায়েল লেমন, রেড ভেলভেট, জাম্বো রেড, এবং সিয়াম রেডের মতো বিভিন্ন জাতের ড্রাগন ফলের চাষ করা হচ্ছে। সুব্রতবাবু জানান, ড্রাগন ফল রপ্তানির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। যেহেতু তার ফর্মের উৎপাদন বর্তমানে সীমিত, তাই এই ফল প্রায়শই অন্যান্য শাকসবজি ও ফলের সাথে বিদেশে যায়। তবে, যদি আরও বেশি সংখ্যক চাষী এই চাষাবাদে যুক্ত হন, তাহলে শুধুমাত্র ড্রাগন ফল দিয়ে ভর্তি বড় বড় কন্টেইনার রপ্তানি করা যাবে বিদেশে।

আরও পড়ুন: অটোচালকের ছেলে হবেন ডাক্তার, অভাবের মধ্যেই NEET-এ অসাধারণ ফল প্রভাতের

সুব্রত মহেশ জানিয়েছেন যে, এক একর জমিতে ড্রাগন ফল চাষ শুরু করতে প্রায় আনুমানিক খরচ প্রায় ৭ লক্ষ টাকা। তবে প্রথম বছরে ফলনের আশা না করাই ভালো। দ্বিতীয় বছর থেকে ধীরে ধীরে ফল ধরবে গাছে ও লাভ আসতে শুরু করবে। তাঁর দাবি, সমস্ত খরচ বাদ দিয়ে, চারাগাছ ও ফল বিক্রি করে তার বার্ষিক আয় এখন প্রায় ১২ লক্ষ টাকা। প্রসঙ্গত, সুব্রত মহেশ ১৩ বছর আগে এই ধরনের চাষাবাদ সম্পর্কে জানতে পারেন। তিনি তখন মনে করেছিলেন যে, একে কেন্দ্র করেই তাঁর ভবিষ্যৎ গড়ে উঠতে পারে। এর পাশাপাশি আর কী কী উপায়ে উৎপাদন বৃদ্ধি করা যায়, সেটাও খতিয়ে দেখছেন কৃষক। আম, কাঁঠালের মতো এই গাছও অনেকবছর বাঁচে। তাই সঠিকভাবে চাষ করলে এই ফল লাভের মুখ দেখাতে পারে।