অনন্যা সরকার, ঝাড়গ্রাম: প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রমের ওপর ভর করে নিজের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়, তারই প্রমাণ দিয়েছেন ঝাড়গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দা দেবকুমার সিংহ (Success Story of Devkumar Sinha)। তাঁর বাবা বাড়ি বাড়ি ঘুরে বাসন বিক্রি করে সংসার চালান। তীব্র অর্থকষ্টের মধ্যেও নিজের স্বপ্নটাকে কখনও শেষ হতে দেননি দেবকুমার। লক্ষ্যে স্থির থেকেছেন, আর তার জোরেই এসেছে সাফল্য। বর্তমানে তিনি খড়গপুর আইআইটির (IIT Kharagpur)‘সেন্টার ফর রুরাল ডেভলপমেন্ট অ্যান্ড ইনোভেটিভ সাসটেইনেবল টেকনোলজি’-তে (CRDIST) গবেষণার সুযোগ পেয়েছেন। আসুন দেবকুমার সিংহের এই সাফল্যের কাহিনীটি জেনে নেওয়া যাক।
অসামান্য সাফল্যর সাথে পৌঁছে গেলেন আইআইটি-এর দরজায়
ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি ব্লকে অবস্থিত প্রত্যন্ত জাড়দা গ্রামের বাসিন্দা দেবকুমার সিংহ তাঁর মেধার জোরে খড়গপুর আইআইটিতে গবেষণার সুযোগ পেয়েছে। গত ২৩ জুলাই ভর্তির দিন সঙ্গে ছিলেন তাঁর এই কঠিন যাত্রাপথের সবচেয়ে বড় সমর্থক, বাবা লক্ষ্মীকান্ত সিংহ ও মা রিনা সিংহ। ২৫ বছর বয়সী এই যুবকের সাফল্যে শুধু পরিবার নয়, গোটা জাড়দা গ্রাম-সহ বেলপাহাড়ি জুড়েই এখন আনন্দের আবহ।
দেবকুমারের বাবা লক্ষ্মীকান্ত সিংহ দীর্ঘদিন ধরে গ্রামে বাড়ি বাড়ি ঘুরে অ্যালুমিনিয়ামের বাসনপত্র বিক্রি করেন। সেই থেকে সামান্য যেটুকু উপার্জন করেন, তা দিয়েই সংসার চালানোর পাশাপাশি তিন সন্তানের পড়াশোনার খরচও বহন করেন। বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে, আর ছোট ছেলে প্রদ্যুৎ কুমার সিংহ গত বছর মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে এমবিবিএস (MBBS) কোর্সে ভর্তি হয়েছেন।
দেবকুমার সিংহের পড়াশোনা শুরু তাঁর গ্রামেরই জাড়দা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। পরে ভর্তি হন মুড়ারী এসসি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে, সেখান থেকে ২০১৯ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন। এরপর ভূগোল নিয়ে হলদিয়া গভর্নমেন্ট কলেজে স্নাতক এবং কলকাতার আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
আরও পড়ুন: লাগবে না যোগ্যতা! হাওড়া ডিভিশনের বিভিন্ন স্টেশনে চাকরি, চলছে আবেদন
এখন তিনি গ্রামীণ উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তি নিয়ে খড়গপুর আইআইটিতে গবেষণার সুযোগ পেয়েছেন। গ্রাম্য সমাজের উন্নয়নে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগ নিয়ে কাজ করাই তাঁর গবেষণার প্রধান উদ্দেশ্য। দেবকুমার জানান, তাঁর এই সাফল্যে মুড়ারী এসসি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভূগোলের শিক্ষক অচিন্ত্য সরকারের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে।










