অনন্যা সরকার, কলকাতা: বারংবার বাধা ও ব্যর্থতার মুখে পড়লে মানুষ প্রায়শই হাল ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। কিন্তু অন্ধ্রপ্রদেশের কাডাপা জেলার বাসিন্দা ২৯ বছর বয়সী নগেন্দ্র সাই লোমাডা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন যে, সৎ ও আন্তরিকভাবে কঠোর পরিশ্রম করলে ব্যর্থতা কখনই সাফল্যের চেয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে না (Success Story of Nagendra Sai Lomada)। আইআইটি খড়গপুর (IIT Kharagpur) থেকে ইন্টিগ্রেটেড ডিগ্রি অর্জন করে নগেন্দ্র সাই মাত্র এক বছরের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের ১টা বা ২টো নয়, মোট ১৪টি চাকরির প্রস্তাব পেয়ে শিরোনামে উঠে এসেছেন। তাঁর এই সাফল্য বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া তরুণ-তরুণীদের অনুপ্রাণিত করেছে। আসুন জেনে নিই নগেন্দ্র সাইয়ের সাফল্যের গল্পটি।
চাকরির পরীক্ষায় অসাধারন সাফল্য নগেন্দ্র সাইয়ের
অন্ধ্রপ্রদেশের কডাপা জেলার রাজা রেড্ডি স্ট্রিটের বাসিন্দা নাগেন্দ্র সাই লোমাদা ছোটবেলা থেকেই একজন মেধাবী ছাত্র ছিলেন। তাঁর বাবা অশ্বিনী কুমার একজন অবসরপ্রাপ্ত এপিএসআরটিসি (APSRTC) কর্তা এবং মা রাজরাজেশ্বরী দেবী স্কুল শিক্ষিকা। স্কুলের পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি আইআইটি খড়গপুর থেকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড সিস্টেমস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পাঁচ বছরের ইন্টিগ্রেটেড বি.টেক-এম.টেক ইন্টিগ্রেটেড ডিগ্রি অর্জন করেন। কিন্তু তিনি যখন আইটিতে ক্যারিয়ার শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক তখনই কোভিড-১৯ মহামারির কারণে চাকরির সম্পূর্ণ ব্যবস্থাই ব্যাহত হয়। ক্যারিয়ারে স্থিতিশীলতার খোঁজে নগেন্দ্র সাই ২০২২ সালের জুন মাসে সরকারি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি শুরু করেন।
আরও পড়ুন: বাবা নেই! সাইকেল সারাই করে ছেলেকে পড়ান মা, UPSC ক্র্যাক করে বরুণ আজ IAS
তবে শুরু দিকে তাঁর প্রস্তুতি মোটেও সহজ ছিল না। ২০২৩ সালের এসএসসি (SSC) পরীক্ষায় তিনি অল্প কিছু নম্বরের জন্য নির্বাচিত হতে পারেননি। এরপর ২০২৪ সালে হায়দ্রাবাদে গিয়ে কোচিং শুরু করলেন, কিন্তু সেবছরও তিনি এসএসসি মেইনস পাশ করতে পারেননি। তবে সবসময় বাবা-মাকে পাশে পেয়েছেন নগেন্দ্র। তাঁদের দ্বারা উৎসাহিত হয়ে তিনি ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে নতুন সংকল্প নিয়ে পুনরায় প্রস্তুতি শুরু করেন। প্রতিটি প্রতিবন্ধকতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজের ভুলগুলো শুধরে নিজের লক্ষ্যকে আরও সুনির্দিষ্ট করেন নগেন্দ্র।
অবশেষে, ২০২৫ সালে তাঁর অধ্যবসায়ের ফল মেলে এবং তিনি পরপর ১৪টি সরকারি চাকরির প্রস্তাব পান। এরমধ্যে রয়েছে – সোশ্যাল সিকিউরিটি অফিসার (লেভেল ৭), আপার ডিভিশন ক্লার্ক (ইউডিসি, লেভেল ৪), আপার ডিভিশন ক্লার্ক (ইউডিসি, লেভেল ৪), স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনভেস্টিগেটর গ্রেড II (লেভেল ৬), এসএসসি ফেজ XIII-এ সার্ভেয়ার, অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিকেশন অফিসার, টেলিকম অ্যাসিস্ট্যান্ট, ফিউমিগেশন অ্যাসিস্ট্যান্ট, সার্ভেইল্যান্স অ্যাসিস্ট্যান্ট, ফিল্ডম্যান, অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেটর (এইচআর) এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ভিলেজ ইন্ডাস্ট্রি অ্যাডমিনিস্ট্রেটর (লেভেল ২ থেকে ৬)।
আরও পড়ুন: মা ঝাড়ুদার, দু’বছর বয়সে হারান বাবাকে! NEET-এ সফল সঞ্জিত আজ ডাক্তারির ছাত্র
সবকটি সুযোগের মধ্যে থেকে নগেন্দ্র সাই লোমাডা বর্তমানে তেলেঙ্গানার মাহবুবনগরে ইএসআইসি (ESIC)-এর শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত আছেন, যা তাঁর আকাঙ্ক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এছাড়াও তিনি নেভি ইনসেট (Navy INCET) অধীনস্থ নয়টি পদেও উত্তীর্ণ হয়েছেন, যার চূড়ান্ত ফলাফল এখনও সামনে আসেনি।
নাগেন্দ্র সাই বলেন, সারা বছর কেন্দ্রীয় সরকার অসংখ্য শূন্যপদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়, কিন্তু অনেক চাকরিপ্রার্থীই এগুলি উপেক্ষা করে শুধুমাত্র কয়েকটি জনপ্রিয় নিয়োগ প্রক্রিয়ার ওপরই মনোযোগ দেন। তিনি প্রার্থীদের যতবেশি সম্ভব প্রাসঙ্গিক সুযোগের জন্য আবেদন করতে বলেছেন। দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পড়াশোনা করা, নিয়মমাফিক প্রস্তুতি এবং ডিজিটাল লার্নিং প্ল্যাটফর্মকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলেই সাফল্য মিলবে বলে জানান নগেন্দ্র। ব্যর্থতাকে ভয় না পেয়ে চাকরিপ্রার্থীদের এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।










