রাজ্যের পর্যটনের হাল-হদিস থাকবে হাতের মুঠোয়, চালু হচ্ছে ‘কলকাতা কী’ অ্যাপ

Published:

Kolkata Key App

অনন্যা সরকার, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন শিল্পের উন্নতিতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে নয়া সরকার। পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্য, পর্যটন কেন্দ্রগুলির পরিকাঠামোগত উন্নতি, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার করার দিকে বিশেষ মনোযোগী হয়েছে রাজ্যের পর্যটন দফতর। এখন দফতরের তরফে ঘোষণা করা হয়েছে যে, রাজ্য পর্যটন বিভাগ শীঘ্রই ‘কলকাতা কী’ (Kolkata Key) নামে একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন চালু করতে চলেছে, যার মাধ্যমে ইউজাররা শহরের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র এবং পরিবহন ব্যবস্থা সম্পর্কে অবগত হতে পারবেন। ভিন রাজ্যের বা বিদেশি পর্যটকরা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন এই অ্যাপটি থেকে। কী কী পরিষেবা দেবে কলকাতা কী, আসুন জেনে নেওয়া যাক। 

কী কী থাকবে ‘কলকাতা কী’ অ্যাপে?

পর্যটন বিভাগের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, এই মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনটি শহরের প্রধান পর্যটন কেন্দ্রগুলি সম্পর্কে ভেরিফাই করা ভ্রমণ-সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করবে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন আকর্ষণ এবং ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলির বিবরণ থাকবে। এই অ্যাপেই বাংলার রাজা ও জমিদারদের ইতিহাস তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে। মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনে উল্লেখিত পর্যটন কেন্দ্রগুলির উন্নয়নের জন্যও দফতরের তরফে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

পর্যটন বিভাগ সূত্রে আরও জানা গেছে যে, এই অ্যাপটিতে শুধু কলকাতার নয়, সারা রাজ্যজুড়ে যাচাই করা বা ভেরিফায়েড হোটেল, হোমস্টে, ট্যুর অপারেটর ও পরিবহন পরিষেবা প্রদানকারীদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য থাকবে। অ্যাপটি পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থান ঘুরে দেখতে ইচ্ছুক ভ্রমণকারীদের জন্য একটি অফিসিয়াল গাইড হিসেবে কাজ করবে বলে জানান এক আধিকারিক।

আরও পড়ুন: মাল্টা চাষে অভাবনীয় সাফল্য মালদার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের, এক পরামর্শেই হল কামাল

জানা যাচ্ছে, পর্যটন বিভাগের ওয়েবসাইটে কিউআর কোড (QR Code) আপলোড করা হবে। এই কোড স্ক্যান করলেও ইউজাররা জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলিরর সর্ম্পকে তথ্য পাবেন। ইতিমধ্যেই সমস্ত জেলার ডিজিটাল মানচিত্র তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। সম্প্রতি, রাজ্যের পর্যটন বিভাগ আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার (ASI) সঙ্গে রাজ্যজুড়ে ১৩৫টি ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ ও স্থান পুনরুদ্ধার ও সংস্কারের জন্য একটি মউ (MOU) স্বাক্ষর করেছে। এর অধীনে নির্বাচিত কিছু স্থানে হাঁটার পথ, ল্যান্ডস্কেপিং, পানীয় জলের ব্যবস্থা, শৌচাগার, সিসিটিভি নজরদারি, অডিও গাইড, পার্কিং এবং স্যুভেনিয়ারের দোকান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দফতরের তরফে ঐতিহ্যবাহী পর্যটন সার্কিটকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি ‘প্যালেস অফ হুইলস’ (Palace of Wheels) চালু করার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। 

আরও পড়ুন: দুর্গাপুজোয় ঘোরার সঙ্গী ভাড়া নেওয়ার আগে মাথায় রাখুন এই বিষয়

দফতর দ্রুত প্রকল্প প্রস্তাবনা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রস্তুত করবে। আর সমস্ত কার্যক্রম যেন প্রাচীন স্মৃতিস্তম্ভ এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান ও ধ্বংসাবশেষ আইন, ১৯৫৮ মেনে চলে, তা নিশ্চিত করার জন্য তদারকি করবে এএসআই। পুরোনো স্থাপত্য ও স্থানগুলির সংস্কার ও পুনরুদ্ধারের কাজ করার সময়েও এএসআই স্মৃতিস্তম্ভগুলির মূল বৈশিষ্ট্যগুলি যাতে অক্ষুন্ন থাকে, তাও খেয়াল রাখবে এএসআই। প্রসঙ্গত, পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ সম্প্রতি জানিয়েছেন, আগামী বছর ৭, ৮ এবং ৯ জানুয়ারি প্রবাসী ভারতীয় দিবস অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে রাজ্য সরকার এবার বাংলার প্রথা, সংস্কৃতি, খাদ্য ও রন্ধনশিল্পের ইতিহাস তুলে ধরতে অংশগ্রহণ করবে।

আরও Kolkata Kolkata Key