মাল্টা চাষে অভাবনীয় সাফল্য মালদার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের, এক পরামর্শেই হল কামাল

Published:

Malta Orange Farming

অনন্যা সরকার, মালদহ: বর্তমানে কৃষিকাজে অধিক আয়ের জন্য অনেক কৃষিজীবীরাই বিকল্প ফসলের সন্ধানে থাকেন। তাঁরা এমন ফসলের চাষ করতে চান যেগুলির উৎপাদন ব্যয় খুব বেশি না হলেও, বিক্রি করে আয় বেশি হবে। রাজ্যজুড়ে এরকম বহু কৃষক তাই নিত্য নতুন খাদ্যশস্য ও ফল চাষের ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। অনেকে পাচ্ছেন সাফল্যও। তাদের মধ্যে একজন হলেন মালদহের অনুপ কুমার ঝাঁ। তিনি পেশায় ছিলেন শিক্ষক। অবসরের পর কৃষিকাজের দিকে ঝুঁকেছেন। তিনি এখন মাল্টা ফল চাষ (Malta orange Farming) করে উল্লেখযোগ্য আয় করছেন। আসুন কীভাবে তিনি এই চাষে সফল হলেন, জেনে নেওয়া যাক।

মালদহে প্রথম মাল্টা ফল চাষ শুরু করলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অনুপ কুমার ঝাঁ মালদায় বিকল্প লাভজনক ফসল হিসেবে মাল্টা চাষ শুরু করেছেন। তিনি পুখুরিয়া থানার বেতাহা এলাকায় প্রায় নয় বিঘা জমিতে এক হাজারেরও বেশি মাল্টা গাছ রোপণ করেছেন। অনুপবাবু থাকেন ইংলিশবাজার থানার শোভানগর এলাকায়। গাছগুলিতে ভালো ফলন হওয়ায় বর্তমানে তিনি বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছেন। 

অনুপবাবু জানান, তাঁর দাদা একজন কৃষি বিজ্ঞানী। ২০১৮ সালে মালদহতে তিনি বিকল্প চাষাবাদ সর্ম্পকে পরামর্শ দিতে গিয়ে লাভজনক মাল্টা চাষের কথা উল্লেখ করেন। সেই পরামর্শ মেনেই তিনি জেলায় প্রথমবারের মতো মাল্টা চাষ শুরু করেন। যেহেতু এই চাষ তাঁর কাছে একেবারে আনকোরা ছিল, তাই প্রাথমিকভাবে কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় তাঁকে। প্রথমে তিনি পরিকল্পনা মাফিক গাছ লাগাতে পারেননি। ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা ও যত্নের মাধ্যমে সাফল্য অর্জন করেন। 

আরও পড়ুন: প্রথম চেষ্টাতেই UPSC ক্র্যাক, মুর্শিদাবাদের মেয়ে পূরণ করলেন কৃষক বাবার স্বপ্ন

মাল্টা হল একটি মিষ্টি ও রসালো সাইট্রাস পরিবারের ফল, যা জাম্বুরা এবং কমলালেবুর সংকরায়নের মাধ্যমে উদ্ভাবিত হয়েছে। মূলত সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত গাছ থেকে মাল্টা সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রির জন্য সরবরাহ করা হয়। মালদা ছাড়াও বিহার সহ বিভিন্ন রাজ্যের ব্যবসায়ীদের মধ্যে এই ফলের চাহিদা রয়েছে। মালদহের আমবাজারের ব্যবসায়ীরাও মাল্টা কিনছেন। অনুপ কুমার ঝাঁ জানান, এই জেলার মাটি ও জলবায়ু মাল্টা চাষের জন্য বেশ উপযুক্ত। এখানকার ফলের গুণগত মান ও স্বাদও তাই বেশ ভালো। ফলে বিকল্প ফসল হিসেবে মাল্টা চাষ করলে লাভের মুখ দেখতে পারেন চাষীরা।