চার মাসেরও বেশি জেলে সুজিত, তদন্ত কতদূর? ইডির কাছে জবাব চাইল হাইকোর্ট

Published:

Sujit Bose

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: কেটে গিয়েছে চার মাসেরও বেশি সময়, কিন্তু এখনও জেলে আটকে পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়া রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু (Sujit Bose)। এমতাবস্থায় হাইকোর্টের (Calcutta High Court) তত্ত্বাবধানে ফের খবরের শিরোনামে উঠে এলেন তিনি। জানা গিয়েছে, গতকাল, সোমবার সুজিত বসুর জামিন মামলায় (Sujit Bose Bail Case) কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির কাছে নানা তথ্য জানতে চাইল কলকাতা হাইকোর্ট। এমনকি এও প্রশ্ন করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মন্ত্রীকে জেলে রেখে কী কী তথ্যই বা জানতে পেরেছে তদন্তকারী সংস্থা?

২৮৪ জন অযোগ্য প্রার্থীর চাকরি হয়েছে

উল্লেখ্য, গত ১১ মে পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে গ্রেফতার করেছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। দক্ষিণ দমদম পুরসভায় বেআইনি ভাবে চাকরিপ্রাপকদের নাম সুপারিশ করার অভিযোগ রয়েছে সুজিতের বিরুদ্ধে। ওইদিন প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এরপরই হাইকোর্টে জামিনের জন্য আবেদন করেছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী। কিন্তু সেই মামলায় হাইকোর্টে ইডি দাবি করেছিল যে, পুরনিয়োগে ২৮৪ জন অযোগ্য প্রার্থীর চাকরি হয়েছে। প্রত্যেকের কাছ থেকে ৬ লক্ষ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সুজিত বসুর অ্যাকাউন্টে ৮.৮ কোটি টাকা মিলেছে।

ফের হাইকোর্টে সুজিত বসুর জামিন মামলা

সুজিত বসুর জামিন মামলার শুনানির দিনও হাইকোর্টে তদন্তকারী সংস্থা আরও জানিয়েছিল যে, সুজিতের অ্যাকাউন্টে শুধু দুর্নীতির টাকা গচ্ছিত ছিল তাই নয়, পরিবারের সদস্যদের অ্যাকাউন্টেও মিলেছে কোটি কোটি টাকা। শেয়ার বাজারে বড় বিনিয়োগের কথাও জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। আর এবার ফের সুজিত বসুর জামিন নিয়ে ইডিকে তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ এদিন ইডির কাছে জানতে চান, সুজিত বসুকে জেলে রেখে কী কী তথ্য পাওয়া গিয়েছে? কতদূর এগিয়েছে তদন্ত প্রক্রিয়া। যদিও সেই তথ্য দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডিকে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ২০১৪ কোটি খরচ, বক্রেশ্বরে ২০০ মেগাওয়াটের ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের অনুমোদন সরকারের

পরবর্তী মামলা কবে?

জানা গিয়েছে, সুজিত বসুর জামিন মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী শুক্রবার। ওইদিন বিচারপতিকে ইডি-র জানাতে হবে যে, কতদিন ধরে সুজিত বসু জেলে আছেন। এবং তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তে কী অগ্রগতি হয়েছে। এখানেই শেষ নয় কেন্দ্রীয় সংস্থাকে এও বলতে হবে যে, তদন্ত শেষ হলে সুজিতকে জেলে রাখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কি না। তাই আপাতত সকলের নজরে এখন সুজিত বসু এবং ইডি।