২০১৪ কোটি খরচ, বক্রেশ্বরে ২০০ মেগাওয়াটের ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের অনুমোদন সরকারের

Published:

_Bakreswar Thermal Power Station

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: বীরভূমের বক্রেশ্বরে (Bakreswar) এবার জলাধারের উপর তৈরি হতে চলেছে ২০০ মেগাওয়াটের ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প। বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জলাধারকে কাজে লাগিয়েই এই প্রকল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই কাজের জন্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ইলেকট্রিসিটি রেগুলেটরি কমিশন (West Bengal Electricity Regulatory Commission) বা WBERC ওয়েস্ট বেঙ্গল পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড (West Bengal Power Development Corporation Limited) বা WBPDCL-কে ২,০১৪ কোটি টাকা খরচের অনুমোদন দিয়েছে। অর্থাৎ এবার মাটিতে বড় এলাকা জুড়ে সোলার প্যানেল বসানোর বদলে জলাধারের উপরেই সৌর প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা করা হবে। প্রকল্পটির সঙ্গে বিদ্যুৎ সংরক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

সৌরবিদ্যুতের সঙ্গে থাকবে ব্যাটারি স্টোরেজ

প্রকল্পটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল ৮০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (Battery Energy Storage System) বা BESS। সহজভাবে বললে, ব্যাটারিটি ৮০ মেগাওয়াট হারে বিদ্যুৎ সরবরাহ করলে প্রায় চার ঘণ্টা পর্যন্ত সেই বিদ্যুৎ ধরে রাখতে পারবে। দিনের বেলায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সমস্যা হলে এই সংরক্ষণ ব্যবস্থা কাজে লাগবে। অর্থাৎ সূর্যের আলো কমে গেলে বা বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লে সঞ্চয় করে রাখা বিদ্যুৎ ব্যবহার করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে গ্রিডের উপর চাপ সামলানো এবং বেশি চাহিদার সময়ে নির্বিঘ্নে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে।

এই প্রকল্পে প্রয়োজনীয় অর্থের একটি অংশের জন্য এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (Asian Development Bank) বা ADB-র সহায়তা চাওয়া হয়েছে। সংস্থাটি প্রায় ১৯৫.১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণের প্রস্তাব দিয়েছে। বক্রেশ্বরে অবস্থিত জলাধার ব্যবহার করার ফলে নতুন করে প্রচলিত পদ্ধতিতে বড় জমি নিয়ে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির প্রয়োজন হচ্ছে না। ফলস্বরূপ জমির খরচ বাঁচছে। জলাধারের উপর সৌর প্যানেল বসানোর এই পদ্ধতিতে জমির ব্যবহার কমানো সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে একসঙ্গে কাজে লাগানোর যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষকদের ‘এ’ ক্যাটেগরি বেতন নিয়ে বড় সংশোধন, অবসরপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রেও জারি হল নতুন নির্দেশ

তবে প্রকল্পের জন্য অনুমোদিত খরচের উপরেও নজরদারি রাখা হয়েছে। ২,০১৪ কোটি টাকার বাইরে WBPDCL-এর অতিরিক্ত টাকা খরচ হলে সেই ব্যয়ের যথাযথ কারণ অবশ্যই দেখাতে হবে। প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা বিশ্বাসযোগ্য না হলে উবার্কএর তরফ থেকে অতিরিক্ত টাকা দেওয়া হবে না। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে, প্রকল্পের কাজ এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে ব্যয়ের বিষয়টিও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরে থাকবে। বর্তমানে প্রকল্পটি বক্রেশ্বর জলাধারকে কাজে লাগিয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ সংরক্ষণের একটি যৌথ কর্মসূচি হিসেবে এগোচ্ছে।