বীরভূম থেকে উদ্ধার ১১৫০ জিলেটিন স্টিক, ৯৮৯ ডিটোনেটর! বড় সাফল্য STF-র

Published:

West Bengal STF

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য বীরভূমে। বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর বীরভূমে অভিযান চালিয়ে ১১৫০টি জিলেটিন স্টিক, ৯৮৯টি ডিটোনেটর এবং ১২ হাজার মিটার ডিটোনেটিং কর্ড উদ্ধার করল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (Special Task Force)। এই ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে STF-এর তরফে জানানো হয়েছে। একসঙ্গে এত বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনা যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলেই মনে করছে তারা।

পাণ্ডবেশ্বর এলাকাতেও STF-এর অভিযান

শুধু বীরভূম নয়, একই দিনে পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বর এলাকাতেও অভিযান চালায় STF। সেখান থেকে ২১টি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬৫ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। দুটি জায়গায় উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর পরিমাণ সামনে আসতেই নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে বীরভূমের বিস্ফোরকগুলি ঠিক কোথা থেকে উদ্ধার হয়েছে এবং সেগুলি কোথায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি।

পাণ্ডবেশ্বরের অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা একটি চলতি মামলার তদন্তের সঙ্গে যুক্ত। এখনও পর্যন্ত ওই মামলায় মোট ৩৮টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ১২২ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি বৃহস্পতিবারের অভিযানেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্র ও কার্তুজ বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এই অস্ত্রগুলি কোথা থেকে আনা হয়েছে, কারা এর পিছনে রয়েছে এবং কোনও বড় চক্রের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে STF। গোটা ঘটনায় তদন্ত জারি রয়েছে।

এটাই প্রথম নয়, বীরভূমে এর আগেও বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনা সামনে এসেছে। ২০২২ সালের ২৯ জুন মহম্মদবাজার এলাকায় একটি গাড়ি আটক করে ৮১ হাজার ইলেকট্রিক ডিটোনেটর উদ্ধার করেছিল STF। পরে তদন্তে আরও বিস্ফোরক বাজেয়াপ্ত হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ৮৫ হাজার ডিটোনেটর, ২৭ হাজার কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট এবং প্রায় ১,৭০০ কেজি জিলেটিন স্টিক উদ্ধারের কথা জানায় NIA। পরে ওই মামলার তদন্তভার নেয় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা।

আরও পড়ুন: রপ্তানিতে ৫০ টাকা ভর্তুকি, আলু চাষিদের জন্য কল্পতরু মুখ্যমন্ত্রী

অন্যদিকে, চলতি বছরের ১২ আগস্ট পাণ্ডবেশ্বর থেকেই আন্তঃরাজ্য অস্ত্র পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার সন্দেহে শেখ রফিকুল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছিল STF। তাঁর কাছ থেকেও বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার হয়। তার আগে আন্দালের পরিত্যক্ত ECL আবাসন থেকে ১৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়েছিল। ওই তদন্তের সূত্র ধরেই পাণ্ডবেশ্বরের অভিযানে পৌঁছেছিল STF।

google button