হাতছানি দিচ্ছে ওড়িশার লুকনো স্বর্গ ‘বারকুল’, সবুজ গাছগাছালি মন ছুঁয়ে যাবে

Published:

Barkul

সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ ওড়িশার বেশিরভাগ জায়গা এখনো পর্যটকদের নজরে বাইরে রয়েছে। বারকুল (Barkul) তেমনই একটি জায়গা। চিল্কা হৃদের ঠিক পাশেই রয়েছে এই পর্যটন কেন্দ্র। থাকা খাওয়ায় সুবিধা রয়েছে পর্যাপ্ত। দিন তিনেকের জন্য যাঁরা নিভৃতে ছুটি কাটাতে চাইছেন তাঁদের জন্য ওড়িশার বারকুল হতে পারে আদর্শ গন্তব্য।

ওড়িশার অফবিট পর্যটন কেন্দ্র বারকুল

ইউনেস্কো হেরিটেজের তকমা প্রাপ্ত চিল্কা হৃদের ঠিক কোল ঘেঁষে রয়েছে বারকুল। আদপে এটি একটি গ্রাম, মূলত স্থানীয় জেলেদের বাসস্থান। সময়ের সঙ্গে এটি হয়ে উঠেছে পর্যটকদের অন্যতম একটি ঘোরার জায়গায়। যারা ওড়িশার (Offbeat Odisha) প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইছেন, তাঁরা নির্দ্বিধায় এখানে চলে আসতে পারেন। জায়গাটির একদিকে সবুজ বনানী, অন্য দিকে সুবিশাল হৃদ। হৃদ ও বাসভূমির মাঝে এক টুকরো বালুকাবেলায়। সুস্থানের সময় চিকচিক করে ওঠে লেকের জল, বিচের হলুদ বালি।

রয়েছে নৌকা বিহারের সুবিধাও

নৌকা বিহারের সুবিধা রয়েছে। প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের কারণে চিল্কা হ্রদ এখনো গবেষণার এক কেন্দ্র। শুধু জল জীবনই নয়, লেকের চারপাশে গড়ে ওঠে বনজঙ্গল, মানব বসতি, পাখিদের ঝাঁক, সূর্যোদয় সূর্যাস্ত কিংবা আস্ত একটা পূর্ণিমার চাঁদ… প্রকৃতি এখানে চির সুন্দর। মরশুম ভেদে বদলায় এলাকার রূপ। বর্ষায় বৃষ্টি যেমন গাঢ় সবুজ বৃষ্টি ধৌত গাছগাছালি, সোঁদা মাটির গন্ধ, শীতে কুয়াশার চাদরে ঢাকা ধীর গ্রাম্য জীবন, পরিযায়ী পাখিদের আনাগোনা।

আরও পড়ুনঃ পুরুলিয়ার বুকেই লুকিয়ে ‘মিনি অরুণাচল!’ ঘুরে আসুন অফবিট কেশরা গ্রামে

 

 

মূল পর্যটন কেন্দ্রের আশেপাশেই রয়েছে জেলেদের বসতি। ইচ্ছা হলে সকালে হাঁটতে বেরিয়ে দেখে নিতে পারেন স্থানীয় গ্রাম্য জীবন, গল্প জুড়ে দিতে পারেন জেলে, মাঝিদের সঙ্গে। যেহেতু নৌকা ভ্রমণের সুবিধা রয়েছে তাই ভেসে পড়তে পারেন লেকের জলে। হাতের কাছে ক্যামেরা থাকলে পটাপট ফ্রেম বন্দী করে নিতে পারেন কিছু নয়নাভিরাম দৃশ্য। হয়তো ভাবছেন বারকুল কোনো এক দুর্গম স্থানে, যাতায়াত করা দুরূহ। না, তেমনটা নয়।

কীভাবে পৌঁছাবেন?

পশ্চিমবঙ্গ থেকে বালাসোর যাওয়ার একাধিক ট্রেন রয়েছে। যে কোনো একটায় উঠে চলে আসুন বালাসোর স্টেশনে। স্টেশন থেকে বারকুল মাত্র ২০ কিলোমিটার। গাড়ি ভাড়া করে চলে আসতে পারবেন অনায়াসেই। ভুবনেশ্বর বা কটক হয়েও আসা যায়, তবে দুরত্ব অনেকটাই বেশি। ভুবনেশ্বর থেকে বারকুল ২০০ কিলোমিটার। তাই সময় ও খরচ দুই বাঁচাতে বালাসোর হয়েই আসা ভালো।

আরওBarkulOdisha
google button