মাত্র ৮ ফুট ১০ ইঞ্চি লম্বা, এটিই বিশ্বের সবচেয়ে ছোট বিমান

Published:

smallest plane

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: সাধারণত বিমানের কথা উঠলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বিশাল ডানা, দীর্ঘ দেহ আর একসঙ্গে একাধিক যাত্রী পরিবহণের উপযোগী এক বিশালাকার কাঠামো। কিন্তু অনেকের কাছেই হয়তো অজানা বহু বছর আগে পৃথিবীতে এমন একটি বিমানও (Plane) তৈরি হয়েছিল, যার দৈর্ঘ্য একটি ছোট ঘরের মাপের, নাম ‘Bumble Bee II’। মার্কিন বিমান ডিজাইনার ও পাইলট রবার্ট এইচ. স্টার এই বিমানটি তৈরি করেন। এটি আকারে অত্যন্ত ছোট কিন্তু বিমান চলাচলের ইতিহাসে এটি একটি বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। এর দৈর্ঘ্য মাত্র ৮ ফুট ১০ ইঞ্চি বা প্রায় ২.৬৯ মিটার।

কীভাবে তৈরি হয়েছিল এই বিমান?

এই কাহিনির সূত্রপাত আরও কয়েক দশক আগে। ১৯৫২ সালে বিমান নির্মাতা রে স্টিটস তৈরি করেছিলেন ‘Sky Baby’ নামে একটি ছোট বিমান। বিমানটির প্রথম উড়ান হয় ওই বছরের এপ্রিল মাসে। এর উদ্দেশ্য ছিল ক্ষুদ্রতম মানুষবাহী বিমান তৈরির রেকর্ড গড়া। সেই সময় রবার্ট স্টারও বিমানটি ওড়ানোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনিও নিজস্ব নকশায় আরও ছোট বিমান তৈরির উদ্যোগ নেন।

১৯৭৯ সালে স্টার ‘Bumble Bee’ তৈরির কাজ শুরু করেন। দীর্ঘ নকশা ও নির্মাণপর্বের পর ১৯৮৪ সালের ২৮ জানুয়ারি অ্যারিজোনার মারানা এলাকায় বিমানটির প্রথম উড়ান হয়। বিমানটি দ্রুত নজর কাড়ে এবং ক্ষুদ্রতম বিমানের রেকর্ড নিয়ে নতুন করে আলোচনার অংশ হয়ে ওঠে। কিন্তু তার আয়ু বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ১৯৮৪ সালের আগস্টে রে স্টিটসের ছেলে ডোনাল্ড স্টিটসের তৈরি ‘Baby Bird’ আরেকটি প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সামনে আসে। ক্ষুদ্র বিমান তৈরির এই প্রতিযোগিতাই রবার্ট স্টারকে আরও ছোট মডেল তৈরির অনুপ্রেরণা যোগায়। আর সেই প্রচেষ্টার ফল ‘Bumble Bee II’।

এর দৈর্ঘ্য ৮ ফুট ১০ ইঞ্চি, ডানার বিস্তার ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি এবং উচ্চতা ৩ ফুট ১১ ইঞ্চি। অর্থাৎ, দৈর্ঘ্য প্রায় ২.৬৯ মিটার, ডানার বিস্তার প্রায় ১.৬৮ মিটার এবং উচ্চতা প্রায় ১.২০ মিটার। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, খালি অবস্থায় বিমানটির ওজন ছিল প্রায় ১৮০ কেজি। পাইলট ও জ্বালানিসহ উড়ানের সময় মোট ওজন দাঁড়াত প্রায় ২৬০ কেজি।

‘Bumble Bee II’ ছিল একটি বাইপ্লেন, অর্থাৎ এতে দুটি স্তরে ডানা ছিল। এই বৈশিষ্ট্যটি একে ‘Baby Bird’-এর মতো “মনোপ্লেন” থেকে আলাদা করে। মনোপ্লেনে সাধারণত এক স্তরের ডানা থাকে। তাই ক্ষুদ্রতম বিমান নিয়ে আলোচনা করার সময় শুধু দৈর্ঘ্য নয়, বিমানের ধরনও গুরুত্বপূর্ণ।

১৯৮৮ সালের ২ এপ্রিল অ্যারিজোনার মারানা এয়ারপার্কে ‘Bumble Bee II’-এর প্রথম উড়ান হয়। কিন্তু এই সাফল্য দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। মাত্র এক মাসের কিছু কয়েকদিনের মাথায় ৫ মে বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের নথি অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় রবার্ট স্টার আহত হন এবং বিমানটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। ফলে বিমানটি আর কখনও আকাশে ওড়েনি। তবে দুর্ঘটনায় ধ্বংস হয়ে গেলেও ক্ষুদ্র বিমান তৈরির ইতিহাসে এর গুরুত্ব রয়ে গিয়েছে।

প্রথম ‘Bumble Bee’-এর ভাগ্য অবশ্য আলাদা। দ্বিতীয় মডেলটি ধ্বংস হয়ে গেলেও আগের বিমানটি এখনও সংরক্ষিত রয়েছে অ্যারিজোনার Pima Air & Space Museum-এ। সংগ্রহশালার তথ্য অনুযায়ী, রবার্ট স্টার ১৯৯০ সালে বিমানটি সেখানে দান করেন। প্রথম মডেলটির দৈর্ঘ্য ছিল ৯ ফুট ৪ ইঞ্চি, ডানার বিস্তার ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি এবং উচ্চতা ৪ ফুট ১ ইঞ্চি। অর্থাৎ, পরবর্তী ‘Bumble Bee II’ আরও ছোট করে তৈরি করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: বাড়িতে বসেই এবার আধারের ঠিকানা বদলান, UIDAI চালু করলো নতুন সুবিধা

অন্যদিকে, ‘Sky Baby’-ও বিমান চলাচলের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য একটি নাম। স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল এয়ার অ্যান্ড স্পেস মিউজিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটির দৈর্ঘ্য ছিল ৯ ফুট ১০ ইঞ্চি, ডানার বিস্তার ৭ ফুট ২ ইঞ্চি এবং খালি ওজন প্রায় ২০৫.৫ কেজি। ‘Sky Baby’, ‘Bumble Bee’ এবং ‘Baby Bird’ এই বিমানগুলি ক্ষুদ্র বিমান তৈরির প্রতিযোগিতার একেকটি পর্যায়ে সফলতার সাক্ষী।

google button