সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: নামের পাশাপাশি প্রতীকও হারিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Trinamool Congress)। মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবেই লড়ছেন এখন তিনি। তবে নির্বাচন কমিশনের দরবারে জমা পড়ার জন্য এবার নাকি তৈরি হচ্ছে লক্ষ লক্ষ হলফনামা। কোন দিকে যাবে তৃণমূলের প্রতীক—ঋতব্রত নাকি কালীঘাট শিবিরে? সম্প্রতি এমনই একটি খবর আলোচনার শিরোনামে।
তৃণমূল কংগ্রেসকে নিয়ে কমিশনে লক্ষ লক্ষ হলফনামা
আসলে এবারের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসে ধরে ভাঙন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নাম এবং প্রতীক ব্যবহার করার উপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করে। কারণ, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬০-র বেশি বিধায়কের সমর্থন নিয়ে তৈরি হয় নব্য তৃণমূল। অন্যদিকে মমতার কালীঘাট শিবিরে পড়ে থাকেন হাতে গোনা কয়েকজন বিধায়ক। সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিচারে ঋতব্রতদেরই বিরোধী দল হিসেবে মনোনীত করে বিধানসভা।
এদিকে গত ১৭ সেপ্টেম্বর নাম এবং প্রতীক ফ্রিজ হওয়ার পর প্রকৃত তৃণমূল কারা, তা নির্ধারণের জন্য দুই পক্ষকে তাদের নেতা এবং কর্মীদের তরফ থেকে সই করা হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনে দুই পক্ষকেই আলাদা নাম এবং প্রতীক দেওয়া হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দলের নাম হয় মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস এবং তাদের প্রতীক হয় ফুটবল খেলোয়াড়। অন্যদিকে বিদ্রোহী পক্ষের নাম হয় ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস এবং তারা খাম প্রতীকে লড়ে।
আরও পড়ুন: “দিমাগি নকশালরা এখনও শিশুদের বিভ্রান্ত করছে” বস্তার থেকে বার্তা মোদীর
এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী ও রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন পশ্চিমবঙ্গের ডিজিপি এবং কলকাতা পুলিশ কমিশনারের কাছে চিঠি পাঠিয়ে অভিযোগ করেন যে শাসক দল পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর থেকে জোরপূর্বক হলফনামা সংগ্রহ করাচ্ছে। পাশাপাশি মমতার শিবির স্ট্যাম্প পেপার জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে বলেই অভিযোগ। তবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, কলকাতা থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে তাদের হলফনামা বোঝাই একটি ট্রাক হরিয়ানা-দিল্লি সীমান্তে আক্রমণের মুখে পড়ে। অন্যদিকে আবার মমতা শিবিরের পক্ষ থেকে এই রুট এবং ট্রান্সপোর্ট খরচ নিয়ে বিভিন্ন রকম প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।










