সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: জল্পনাতেই পড়ল সিলমোহর। নন্দীগ্রামের বিজেপি (Bharatiya Janata Party) প্রার্থী হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিহত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথ। অন্যদিকে রেজিনগর আসনেও আজ প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিজেপি। সেখান থেকে ভোটে লড়বেন শাখারভ সরকার। বামফ্রন্ট থেকে শুরু করে কংগ্রেস এবং দুই তৃণমূল, প্রত্যেকেই আগেভাগেই প্রার্থী ঘোষণা করে নিয়েছে। আগামীকাল অর্থাৎ ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ। আর আজ নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর উপনির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণা করল রাজ্য বিজেপি।
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে প্রার্থী ঘোষণা বিজেপির
এবারের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর দুই আসন থেকেই লড়েছিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অন্যদিকে রেজিনগর এবং নওদা এই দুই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে লড়েন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর। তবে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, দু’জনই দুটি করে আসনে জয়লাভ করেছেন। তবে যেহেতু কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী একজন বিধায়ক শুধুমাত্র একটি বিধানসভার দায়িত্ব সামলাতে পারেন, তাই শুভেন্দু অধিকারী ছাড়েন নন্দীগ্রাম এবং হুমায়ুন কবীর ছাড়েন রেজিনগর। সেই কারণে আগামী ৬ অক্টোবর এই দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনের ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
এদিকে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হতে পারেন নিহত চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথ, এমনটা জল্পনা ছড়িয়েছিল অনেকদিন আগেই। আসলে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী শপথ নেওয়ার আগেই উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে তাঁর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথকে গুলি করে হত্যা করে দুষ্কৃতীরা। সেই সূত্রে বিজেপির প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করে ছেলের বিচার পাবেন হাসিরানি রথ এমনটাই মনে করছিলেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। এমনকি মজার ব্যাপার, বিজেপি প্রার্থী ঘোষণা করার আগেই নন্দীগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় হাসিরানি রথের পোস্টার লাগানো হয়। অবশেষে আজ সকালে দলের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: পুজোর আগেই বাস ভাড়া বাড়ছে? স্পষ্ট ইঙ্গিত পরিবহন মন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের
বলাবাহুল্য, এবারে নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর আসনটি হাতে রেখেই ছেড়েছিলেন নন্দীগ্রাম। এবার ভবানীপুরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিপুল ভোটে পরাজিত করেন তিনি। অন্যদিকে একুশের নির্বাচনে নন্দীগ্রামেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে গো-হারা হারিয়ে বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন শুভেন্দু। তাই নিজের চেনা আসনে ঘনিষ্ঠ কাউকেই তিনি বসাতে পারেন এমনটাই চলছিল জল্পনা। যদিও তালিকায় ছিলেন মেঘনাথ পাল, অঞ্জন পাল সহ প্রমুখরা। তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতেই ছিলেন নিহত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা। অন্যদিকে এবার রেজিনগর আসন থেকে লড়বেন শাখারভ সরকার।










