প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের পরেও কাটেনি SIR এর জট (SIR West Bengal), ফের বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar)। অভিযোগ SIR নিয়ে শুরু থেকেই দুই কমিশনারের আপত্তি উড়িয়ে দিয়ে নাকি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আর সেই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় জাতীয় রাজ্য রাজনীতি। তাই এই ঘটনার প্রতিবাদে সরাসরি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের (Gyanesh Kumar resignation) দাবি করছে তৃণমূল, সিপিএম-এর দল।
১৪ বার আপত্তি জানালেও শোনা হয়নি কথা
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের SIR প্রক্রিয়া নিয়ে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, SIR বা ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া চলাকালীন নাকি দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী বেশ কয়েকটি বিষয়ে আপত্তি তুলেছিলেন। এমনকি পশ্চিমবঙ্গ ও গোয়ার ভোটার তালিকা সংক্রান্ত মামলা নিয়ে গত ১০ মাসে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সিদ্ধান্তে ১৪ বার আপত্তি দায়ের করেছিলেন। কিন্তু জ্ঞানেশ কুমার তাঁদের কোনও কথা শোনেননি। এবং বাকি ২ জনের সম্মতি ছাড়াই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। আর এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই মহা বিতর্ক শুরু হল বিরোধী পক্ষের তরফে।
কী বলছেন সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ?
নিয়ম অনুযায়ী, যে কোনও বিষয় নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তগুলো প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ আরও দুজন নির্বাচন কমিশনারের একটি প্যানেল দ্বারা গৃহীত হয়। কিন্তু SIR-এর ক্ষেত্রে এই নিয়ম মানা হয়নি। বাকি দুই নির্বাচন কমিশনার আপত্তি তুলেছিলেন একাধিক বিষয় নিয়ে কিন্তু প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তাঁদের আপত্তিগুলোকে উপেক্ষা করায় এবার সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ দাবি করছেন বিরোধী শিবিরের রাজনীতিকরা। যদিও এই দাবি অস্বীকার করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন যে, “কোনও রকম গণতন্ত্রের সুযোগ না দিয়ে, কমিশনারদের মতামতকে পাত্তা না দিয়ে, এই জ্ঞানেশ কুমারের মাধ্যমে বিজেপির নির্দেশিত পথে ভারতের ভোটার লিস্ট তৈরি করা হয়েছে SIR-এর নাম করে।”
আরও পড়ুন: কলকাতার পুজোয় নতুন উদ্যোগ আদানি গ্রুপের, মিলবে ২৫ লক্ষ টাকা পুরষ্কার, কারা পাবেন?
প্রতিবাদ করলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও
শতরূপ ঘোষের আরও দাবি, “ নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ এবং জ্ঞানেশ কুমার, এই তিন জন মিলে ভারতে নির্বাচন জেতার জন্য ভোটার লিস্টকে ম্যানিপুলেট করেছে। কারা ভোট দেবে, নিজেদের পছন্দ মতো ভোটার ঠিক করেছে। অবিলম্বে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ দরকার। সেক্ষেত্রে তাঁর বিরুদ্ধে একসঙ্গে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনবে বিরোধী পক্ষ। তবে শুধু অপসারণ নয়, তদন্ত করে জ্ঞানেশ কুমারকে জেলে ভরতে হবে।” অন্যদিকে তৃণমূলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এই খবর সত্য হলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ করা উচিত। সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের তোয়াক্কা না করা হয়ে থাকে, তাহলে বেআইনি কাজ হয়েছে, অবৈধ কাজ হয়েছে, অন্যায় হয়েছে। ওঁর পদত্যাগ করা উচিত।”










