প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: হাতে বাকি আর ৫ দিন, তার পরেই রাজ্যে শুরু হতে চলেছে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026)। শেষ মুহুর্তে তাই জোরকদমে চলছে ভোটের প্রচার। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ, জেলায় জেলায় জনসংযোগ বৃদ্ধি করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে তৃণমূল এবং বিজেপি। এমতাবস্থায় দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন নন্দীগ্রামের (Nandigram) ‘শহিদ মাতা’ ফিরোজা বিবি (Firoza Bibi)। অভিমানের সুরে জানান, “দল খোঁজ নেয় না, এমনকি দিদিকে চিঠি লিখেও উত্তর নেই”।
নন্দীগ্রাম আন্দোলনের অন্যতম মুখ ফিরোজা বিবি
পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ১ ব্লকের কালীচরণপুর অঞ্চলের জাদুয়ারিচকের বাসিন্দা হলেন ফিরোজা বিবি। বাম আমলের সময় ২০০৭–এর ১৪ মার্চ নন্দীগ্রাম আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছিল ফিরোজা বিবির ছোট ছেলে, সেই সময়ের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী শেখ ইমদাদুল ইসলাম। সেই সময় সন্তানহারা ফিরোজার পাশে দাঁড়িয়েছিল তৃণমূল। সন্তানহারা ফিরোজাকে নন্দীগ্রাম চেনে ‘শহিদ মাতা’, ‘নন্দীগ্রামের মা’বলে। এরপর কেটে গিয়েছে বহু বছর, ৩৪ বছরের বাম সাম্রাজ্য ভেঙে সরকার গঠন করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজনৈতিক নানা সমীকরণও পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু শেষ বেলায় একলা হয়ে পড়েছেন ফিরোজা বিবি।
টানা চার বারের বিধায়ক ফিরোজা বিবি
টানা চার বারের বিধায়ক ছিলেন ফিরোজা বিবি। ২০০৯ এ নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে ৩৯ হাজার ৬৪৩ ভোটে জিতে প্রথম বার বিধায়ক হন ফিরোজা। তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন জেলায় সভা করতেন তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্ব। এরপর ২০১১–র বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে প্রায় ৪৪ হাজার ভোটে জেতেন তিনি। ২০১৬ এবং ২০২১–এর বিধানসভা ভোটে পাঁশকুড়া পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জিতে বিধায়ক হন। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে রাজনীতির ময়দানে তাকে আর দেখা যায়নি। ভোটের প্রচারেও দেখা যাচ্ছে না তাঁকে। এদিকে দলের তরফেও রাখা হয়নি খোঁজ। অভিমানে তাই নিজেকে কার্যত ঘরবন্দি করে রেখেছেন পাঁশকুড়া পশ্চিমের বিদায়ী বিধায়ক।
দলের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ শহীদ মাতার
জনপ্রিয় এক সংবাদ চ্যানেলে সাক্ষাৎকার পর্বে নন্দীগ্রাম আন্দোলনে সন্তানহারা ফিরোজা বিবির গলায় মিলেছে এক রাশ অভিমান। তিনি জানিয়েছে, “নেতৃত্বর কাছে গিয়েছি, দিদিকে বারবার চিঠি লিখেও উত্তর পাইনি। আমার সময় ফুরিয়ে গেছে। আমি তখন টিকিটও চাইনি। দাঁড়াতেও চাইনি। আমায় দল ভাল মনে করেছিল, দিয়েছিল। এখন ২০২৬ এ আমি অচল হয়ে গেলাম। আমার কোনও কদরই নেই। দল এমন দেখভাল করে যে খোঁজখবর নেয় না।” শুধু তাই নয়, নন্দীগ্রাম–সহ তমলুক সাংগঠনিক জেলার চারটি আসনে ‘দলবদলু’রা তৃণমূলের টিকিট পাওয়ায় ক্ষুব্ধ ‘শহিদ মাতা’।
আরও পড়ুন: ভোটার তালিকা আপডেট হলে কীভাবে জানবেন ‘বাতিল’ ভোটাররা? মুখ খুললেন CEO
নন্দীগ্রামের এবারের প্রার্থী পবিত্র করকে নিয়েও ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন ফিরোজা বিবি। তিনি জানিয়েছেন, “তৃণমূল কর্মী খুনে অভিযুক্ত পবিত্র বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে টিকিট পেয়ে গেলেন। নন্দীগ্রামের শহিদ পরিবারের সদস্যরা ওঁকে মেনে নেবেন না। তৃণমূল শহিদদের মর্যাদার অবমাননা করল। আমি নিজেও অপমানিত বোধ করেছি। নন্দীগ্রাম, হলদিয়া, ময়না এবং পাঁশকুড়া পশ্চিমে দল যাঁদের টিকিট দিয়েছে, তাঁরা প্রত্যেকে অন্য দল থেকে এসেছেন।” যদিও এই ক্ষোভকে আমল দিতে নারাজ তৃণমূল। তমলুক সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুজিতকুমার রায় বলেন, ‘ফিরোজা বিবি দলের সঙ্গেই আছেন। দলকে ভালোবাসলে দলীয় প্রতীককেও ভালোবাসতে হবে।’










